বেলডাঙায় চলন্ত ট্রেনে পাথরবৃষ্টি! স্টেশনে ঢোকার মুখেই হা*মলা, আত*ঙ্কে যাত্রীরা, কারা টার্গেট করল ধনধান্য এক্সপ্রেস?

রাতের ট্রেনযাত্রা সাধারণত অনেকের কাছেই স্বস্তির। দিনের ব্যস্ততা পেরিয়ে অনেকেই নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছনোর আশায় ট্রেনে ওঠেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বস্তির যাত্রা কখন যে আতঙ্কে বদলে যেতে পারে, তা বুঝে ওঠার সুযোগও থাকে না। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় আবারও সামনে এল ট্রেন নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন।

রবিবার রাতে কলকাতা থেকে বহরমপুরগামী একটি ট্রেন বেলডাঙা স্টেশনের কাছে পৌঁছনোর সময় আচমকা বিপত্তি ঘটে। স্টেশনে ঢোকার মুখেই ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। কেউ বুঝে ওঠার আগেই জানলার পাশে দিয়ে ছুটে যায় পাথর। এই ঘটনার পরেই যাত্রীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা জানলার পাশে বসেছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পান। অনেকেই প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে।

ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই একটি পাথর তাঁদের পাশ দিয়ে চলে যায়। পরে মেঝেতে পাথর পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। কেউ কেউ বলেন, ওই এলাকায় এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে হকারদের কাছ থেকে শুনেছেন। আরেকজন যাত্রী জানান, ট্রেনটি যখন বেলডাঙা স্টেশনে ঢুকছিল, তখন ডানদিক থেকে পাথর ছোড়া হয়। পুরো ঘটনাটি এতটাই হঠাৎ ঘটে যে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় থানার পুলিশ। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও আহত হওয়ার খবর মেলেনি। তবুও যাত্রীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে কাটছে না।

আরও পড়ুনঃ  “কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীর শরীরের দিকে বা স্তনে*র দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা অ*পরাধ নয়” জানালো হাইকোর্ট!

ট্রেনে পাথর ছোড়া নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু প্রতিবারই এটি গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রেল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, এই ধরনের কাজ আইনত গুরুতর অপরাধ। ১৯৮৯ সালের আইনের ১৫২ ধারায় ট্রেনে পাথর ছোড়া বা ক্ষতি করার চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনে দোষী প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দীর্ঘমেয়াদি জেলের শাস্তিও হতে পারে। এমনকি কোনও উদ্দেশ্য ছাড়াই এই কাজ করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানাও হতে পারে। ফলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর