নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে চমকে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো থেকে শুরু করে উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি সব ক্ষেত্রেই দ্রুততার ছাপ দেখা যাচ্ছে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যার দিকে নজর দিয়ে যেভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন তিনি, তা হয়তো সাধারণ মানুষও এত তাড়াতাড়ি আশা করেননি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে নিয়ে তাঁর নতুন পরিকল্পনা এবং সরাসরি সেখানে গিয়ে কাজ করার ঘোষণা এখন রাজনৈতিক মহলে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বুধবার প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিলেন “ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব।” আর সেই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যে।
বুধবার বেলা ১১টার কিছু পরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়েই হাতজোড় করে উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রণাম জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য উত্তরবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista) এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিতীশ প্রামানিক (Nisith Pramanik)।
শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার থেকে প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা উত্তরবঙ্গে আসবে। ঘুরতে নয়, এখানে কাজ করতে আসব। কথা কম বলব, কাজ বেশি করব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) অতীতে বহুবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় সময় কাটিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দুর এই মন্তব্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিন উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, বর্ষা সামনে থাকায় বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বৈঠকে। পাশাপাশি রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চিকিৎসা পরিষেবা, চা বাগানের সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ এবং জমি-বালি-পাথর মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে প্রশাসনকে। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার বিধায়ক, পুলিশ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে এই বৈঠকে উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
উত্তরবঙ্গ নিয়ে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথাও এদিন তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে দার্জিলিং পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গ প্রথম বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও বিজেপির সংকল্পপত্রে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সব পূরণ করা হবে। উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের ঋণ শোধ করব।” তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি সরকার।
শুধু মাসে একবার মুখ্যমন্ত্রীর সফর নয়, উত্তরকন্যাকে এবার পুরোপুরি সচল করার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু। ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে একদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক উত্তরকন্যায় বসবেন। সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন তিনি। এরপর উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা, আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং উত্তরবঙ্গের সাংসদ-বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রায় একবছর পর্দার বাইরে মধুরিমা বসাক, ‘মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না’, বাংলা টেলিভিশনকে বিদায় জানিয়ে, এখন কী করছেন অভিনেত্রী?
উত্তরকন্যায় যাওয়ার আগে শিলিগুড়ির বিজেপি জেলা পার্টি অফিসেও যান মুখ্যমন্ত্রী। পথে একাধিকবার তাঁর কনভয় থামতে দেখা যায়। গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি। এমনকি ছোট শিশুদের কোলে নিতেও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। জনজোয়ারের মধ্যেই পার্টি অফিসে পৌঁছে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর থেকেই উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক বার্তা তিনটিকেই একসঙ্গে সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।






