২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি। লালগড়ের নেতাইয়ে গুলিতে নিহত হন ৯ জন গ্রামবাসী। আর এই ঘটনাকে সামনে রেখেই তৃণমূল চালু করে ‘নেতাই দিবস’। এতদিন তৃণমূলের তরফে নির্ভর যোগ্য নেতা শুভেন্দু অধিকারীই যেতেন শহীদ-তর্পণে সামিল হতে। তৃণমূলের মন্ত্রী থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে জঙ্গলমহলের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু। সেই সময় থেকেই লালগড়ের নেতাই গ্রামের একজন হয়ে ওঠেন তিনি। নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায় তৃণমূল সরকার। তবে সেই ‘কৃতিত্ব’ শুভেন্দুর বলে অনেকে দাবি করেন। কিন্তু এই বছরটা আলাদা। সদ্য তৃণমূল ছেড়েছেন শুভেন্দু। এখন তিনি বিজেপি নেতা। তাই সেখানে এবার পা রেখেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্র’র মতো নেতারা।
বুধবার রাতেই ঝাড়গ্রামে পৌঁছন তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। সকাল থেকে আদিবাসীদের ডাকা হুড়কাজ্যাম কর্মসূচির জন্যই বুধবার রাতেই এই তৃণমূল নেতা চলে আসেন নেতাইয়ে। আজ বৃহস্পতিবার তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন হয় বেলার দিকে। আর সেই শহীদ মঞ্চ থেকেই তৃণমূল ত্যাগী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বেলাগাম আক্রমণ করেন মদন মিত্র।
প্রসঙ্গত, আজ সকালেই শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই কারণেই শহীদ বেদী অশুদ্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করে তা গঙ্গা জলে শুদ্ধিকরণ করেন মদন মিত্র ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপরই শুভেন্দুকে আক্রমণ করে মদন বলেন, “যদি এক বাপের ব্যাটা হয়, যদি মায়ের দুধ খেয়ে থাকে, তাহলে আমাদের মোকাবিলা করুক। আমরা এখানে দুটো মিছিল করব, শুভেন্দুর নরকেও জায়গা হবে না।”
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, আজ শহীদ বেদীতে মাল্যদানের পাশাপাশি নিহত পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানান শুভেন্দু। পরে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। বলেন, “আজ নেতাই ঢুকতে গিয়ে যা দেখলাম, তা এলাকার মানুষ ভাল চোখে নেননি। গোটা রাস্তায় পতাকায় (তৃণমূলের) মুড়ে দিয়েছে, যা খারাপ লাগছে। আমি যতদিন ধরে এখানে আসছি কোনও দিন দলের পতাকা ব্যবহার করিনি। আজকেও বিজেপির নেতারা এসেছেন। কিন্তু দলের পতাকা নিয়ে নয়।”






