দলনেত্রীর উপযুক্ত সৈনিক! মমতার ‘ফোঁস’ পরামর্শের পর লাগামছাড়া তৃণমূল নেতারা, এবার ‘দংশন’ করার নিদান দিলেন উদয়ন গুহ

বিতর্ক আর উদয়ন গুহ যেন একে অপরের পরিপূরক। নানান সময় নানান মন্তব্যের জেরে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী। বিতর্কিত মন্তব্য করে অস্বস্তিতে ফেলেন দলকে। কিন্তু তা বলে বেফাঁস মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন না। এবারও তেমনই হল। ফের বিতর্কের মাঝে দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে আর জি কর কাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিকিৎসকদের কর্মবিরতি আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তাদের কাজে ফেরার আর্জি জানান। কিন্তু তাও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “আগামী দিন আপনাদের কাজ হচ্ছে চক্রান্তকারীদের মুখোশ খুলে দিয়ে ফোঁস করতে শিখুন”।

মমতার এহেন মন্তব্যের পরই যেন লাগামছাড়া তাঁর দলের নেতারা। সত্যিই দলের কাউন্সিলর-নেতারা নিজেদের মতো করে ফোঁস করছেন। তালিকায় বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক থেকে শুরু করে সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, তৃণমূল ব্লক সভাপতি কালিদাস মুখোপাধ্যায়। আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহও।  

গতকাল, রবিবার দিনহাটায় তৃণমূল সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উদয়ন বলেন, “পরিকল্পিতভাবে বদনাম করা হচ্ছে। মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে । তা না হলে এসব বাড়তে থাকবে। তাই ১ বার কেউ দংশন করলে, ৫ বার দংশন করতে হবে। ওরা যদি একটা দাঁত বসায়, তাহলে আমরা পাঁচটা দাঁত বসানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। তাহলে মিথ্যাচার বন্ধ হবে”।

এটাই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার এহেন মন্তব্য করেছেন তিনি। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে মহিলাদের রাত দখলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে উদয়ন বলেছিলেন, “দিনহাটার কেউ কেউ কাল রাতের দখল নিতে চাইছেন। আমার সমর্থন থাকল। তবে স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে রাতে ফোন করবেন না”।

আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ড নিয়ে চিকিৎসকদের কৌতুক ঢঙে খোঁচা কাঞ্চনের, প্রতিবাদে দীর্ঘদিনের বন্ধু-সহকর্মীকে ‘ত্যাগ’ করলেন সুদীপ্তা, ফুঁসছে চিকিৎসক মহলও

তিনি বলেন, “গ্রামের মদের ঠেক বা লটারির দোকান এসবের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন হয়, তখন গ্রামের সাধারণ মহিলারাই আন্দোলন করেন। কোনও জিন্স প্যান্ট পরিহিতা সেখানে আন্দোলন করেন না। কারণ সেই আন্দোলন কোনও টিভিতে দেখা যায় না। তারা সেসব আন্দোলন-ই করেন যেগুলো টিভিতে দেখা যায় বা ইংরেজি পত্রিকায় ওঠে”।

তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক ছড়ায়। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেছিলেন, “রাজনীতি করলে এই ধরনের কথা বলার অধিকার কোথা থেকে এসেছে। মানুষই জবাব দেবে”।

আরও অন্যান্য খবর