তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)-কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-কে হুমকি দেওয়া এবং ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের দাবিতে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
গত ১৫ মে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ করেন রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক যে ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারত। এমনকি তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে বিরোধী মতের মানুষদের উপর হামলার পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে গত ৫ মে বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন রাজীব সরকার। পরে সেই অভিযোগ স্থানান্তরিত হয়ে যায় বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ছ’টি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও অভিষেকের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই এফআইআর বাতিলের দাবিতে সরাসরি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আদালতের কাছে তাঁর আবেদন, এই মামলার কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
অভিযোগকারী রাজীব সরকার নিজেকে সমাজকর্মী বলেই পরিচয় দিয়েছেন। এর আগেও তিনি বাগুইআটি এলাকার কিছু বার ও সেখানে নাচ-গান সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে অভিযোগ তুলে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। তবে রাজীব সরকারের বিরুদ্ধেও অতীতে নারী পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সেই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছিল বলেই দাবি তাঁর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ কোনওভাবেই ব্যক্তিগত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে নেতাদের ভাষা দায়িত্বশীল হওয়া উচিত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তির কথা মাথায় রেখেই বক্তব্য রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদের ভিড়ে আজও ‘পারফেক্ট কাপল’ জিৎ-মোহনা! অন্যান্য তারকাদের ভিড়ে কেন তাঁরা একেবারেই আলাদা? বিয়ের আগে মোহনাকে কী এমন বলেছিলেন জিৎ? বহু বছর পর সামনে এল, সেই ব্যক্তিগত কথোপকথন!
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে শাসকদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ সব মিলিয়ে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের দিকে। আদালত এই মামলায় কী অবস্থান নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।






