ভোট মানেই উত্তাপ, উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা। আর উপনির্বাচন হলে সেই উত্তেজনা যেন দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে কালীগঞ্জের উপনির্বাচনেও তার অন্যথা হয়নি। সকাল হতেই বিভিন্ন বুথে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর, ছড়িয়েছে উত্তেজনা। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে দেখা গেছে একদিকে ভোটদানের উৎসাহ, অন্যদিকে আশঙ্কার মেঘ। এই ভোট যে শুধু একটি আসনের জন্য লড়াই নয়, বরং ২০২৬-এ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বাভাস—সেই উপলব্ধি রাজনীতির অন্দরেই তোলপাড় ফেলেছে।
ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক বুথে বিরোধী দলের এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস ও বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বুথে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের এজেন্টদের। এমনকি, ১৭৭ নম্বর বুথে ইভিএম বিকল বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন বাম বিধায়ক। যদিও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, “এই অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কোথাও কোনও অশান্তি নেই।”
এদিন সকাল পৌনে আটটা নাগাদ তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ ও বিজেপি প্রার্থী আশিষ ঘোষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার পর আলিফা বলেন, “আমরা মাটি কামড়ে লড়াই করছি। ওরাও নিজেদের মতো করুক।” একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয় না পেয়ে মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। প্রার্থীদের ভোটদানে সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোট দেওয়ার উৎসাহ বাড়িয়েছে।
এই উপনির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে তৃণমূল বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর ফলে ফাঁকা হওয়া কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনে। এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস মনোনয়ন দিয়েছে প্রয়াত বিধায়কের মেয়ে আলিফা আহমেদকে। বিজেপির তরফে প্রার্থী হয়েছেন দলের ‘আদি’ নেতা হিসেবে পরিচিত আশিষ ঘোষ। অন্যদিকে বামেদের সমর্থনে কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন কাবিলউদ্দিন আহমেদ। তিনটি শিবিরেই চলছে সমান জোরদার প্রচার ও ভোট টানার মরিয়া চেষ্টা।
আরও পড়ুনঃ Asyrology: অক্টোবরেই খুলছে ভাগ্যের দরজা! হংস রাজযোগে কপাল খুলবে এই ৩ রাশির!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফলাফল আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিক নির্দেশ করে দেবে। তাই শুধু ভোট নয়, এই লড়াই ভবিষ্যতের রাজনীতির ‘লিটমাস টেস্ট’ বলেই মনে করছেন অনেকে। তিনটি শিবিরের নেতাকর্মীরাই বুথে বুথে কর্মী নামিয়ে লড়াই করছেন জোর কদমে। তবে প্রাথমিকভাবে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ভোটের প্রাথমিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। —কালীগঞ্জের এই উপনির্বাচন শুধু একটি আসনের নয়, বরং ভবিষ্যতের বহু রাজনৈতিক কাহিনির সূচনা।






