“ভারত ধর্মশালা নয়, অনুপ্রবেশকারীদের জেলে পাঠানো হবে” বাঁকুড়ার মঞ্চে থেকে কড়া হুঁশিয়ারি আমিত শাহের! তৃণমূল সরকারের আমলেই কি বেড়েছে এই সমস্যা, কি জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? ভোটের মুখে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি কতটা প্রভাব ফেলবে বাংলার রাজনীতিতে?

ভোটের আগে বাংলার মাটিতে একের পর এক জনসভা যেন এখন রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, সবকিছুই ছুঁয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের প্রশ্নকে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে বাঁকুড়ার লালমাটির দেশে আয়োজিত সভা ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ, আর সেখান থেকেই উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

শনিবার বাঁকুড়ার ওন্দায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সভার শুরুতেই তিনি স্থানীয় দুর্গামন্দির ও শিবমন্দিরে প্রণাম জানান। তারপরই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অনুপ্রবেশ ইস্যু। সরাসরি কড়া ভাষায় তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের জন্য বিপদ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এলে আইনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং কাউকেই আর বরদাস্ত করা হবে না।

বক্তব্যের মধ্যেই উঠে আসে নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গও। আর জি কর এবং সন্দেশখালির মতো ঘটনাকে সামনে এনে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি তুলনা টানেন অন্য রাজ্যের সঙ্গে, যেখানে রাতের বেলাতেও মহিলারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন বলে দাবি করেন। বিজেপি সরকার গঠিত হলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, এমন আশ্বাসও দেন তিনি।

শুধু নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান এবং কৃষক সমস্যাও তাঁর বক্তব্যে বড় জায়গা নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার শিল্প গড়ে তোলার বদলে বহু শিল্প ফেরত পাঠিয়েছে, যার ফলে কাজের সুযোগ কমেছে। পাশাপাশি আলুচাষিদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষকরা তাঁদের ফসলের সঠিক দাম পাবেন এবং বাংলার আলু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাবে। বিষ্ণুপুরে একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “গলা অবধি জলে শুটিংয়ের সময়, হঠাৎই ডুবতে শুরু করি…জলগর্তে ডুবতে ডুবতে একটুর জন্য বেঁচেছি” বাংলা ছবির শুটিংয়ের সেই ভয়া’বহ অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন পাওলি দাম! কীভাবে নিজেকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি সেদিন?

সব মিলিয়ে, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। শাসকদল তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং একাধিক প্রশ্ন তুলেছে তাঁর প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ভোটের আগে এমন মন্তব্য যে রাজনীতির ময়দানে আরও উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই বার্তাগুলি কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ফলাফলে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles