‘২৯ এপ্রিল ভোট, তাই তলব করেছে, অনুব্রতকে সিবিআই দফতরে যেতে নিষেধ করেছি’, নেত্রীর আদেশ মানলেন কেষ্ট

গতকালই গরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। কিন্তু আজ তিনি হাজিরা দিচ্ছেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বীরভূম তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর সহযোগী।

সিবিআই সূত্রে খবর, বীরভূমের দুঁদে তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে তিনি বাড়ি থেকে বেরোবেন না। তাই তাঁকে কিছুটা সময় দেওয়া হোক।

আরও পড়ুন- করোনার ছোবলে পড়লেন মহাগুরু! কোভিড পজিটিভ মিঠুন চক্রবর্তী

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শেষ দফা অর্থাৎ অষ্টম দফায় বীরভূমের ১১টা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক তার আগেই ওই নির্দিষ্ট জেলার অত্যন্ত দাপুটে তৃণমূল নেতাকে সমন পাঠানোর নেপথ্যে কেন্দ্রের রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকার অভিযোগ উঠছে।

আরও পড়ুন-কঠোর কোভিড বিধি, এবার দুপুর দুটোর পর বাজার বন্ধ করে দিচ্ছে মমতা সরকার!

বীরভূমের জেলা সভাপতি সিবিআইকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কিডনির অসুখে ভুগছেন। তাই করোনা পরিস্থিতিতে তিনি বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না। তাই তাঁকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া হোক। একইসঙ্গে অনুব্রতের যে সহযোগীকে সিবিআই তলব করেছিল, তিনিও সিবিআইকে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত। তাই তিনি হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।এখনই সিবিআই দফতরে আসতে পারছেন না। সিবিআই সূত্রে খবর, গরুপাচারকাণ্ডে সাক্ষীদের বয়ানে অনুব্রতের নাম উঠে আসে। সেইজন্য অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সিবিআইয়ের দাবি, বীরভূম থেকেও গরু পাচার হতো।বীরভূমে গরুর হাটেরও আয়োজন করত গরুপাচারকারীরা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ তদন্তের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গরু পাচার কাণ্ডে চার্জশিট পেশ করল সিবিআই। অভিযোগপত্রে চক্রের মূল পাণ্ডা এনামুল হক, বিএসএফ আধিকারিক সতীশ কুমার, গুলাম মুস্তফা ও আনারুল শেখ-সহ সাতজনের নাম ছিল। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আবহে গরু ও কয়লা পাচার কাণ্ডে জড়িত রাঘব বোয়ালদের জালে আনতে তৎপর সিবিআই। দুই পাচারের অন্যতম মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারির পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, ধৃতদের টানা জেরা করেও জট খোলার চেষ্টায় মরিয়া তাঁরা। সিবিআই সূত্রে খবর, জেরায় নানা তথ্য উঠে আসছে, যার ভিত্তিতে তাঁরা তদন্তের পরবর্তী ধাপে পৌঁছনোর জন্য কাজ করছেন।

তবে এই ঘটনায় মুখ খুলে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টত বলেন, ‘২৯শে এপ্রিল ভোট।তাই তলব করা হয়েছে। অনুব্রতকে সিবিআই দফতরে যেতে নিষেধ করেছি।’

RELATED Articles