বাংলাদেশে দিনদিন বাড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা। ওপার বাংলার নানান অঞ্চলে জ্বলছে আগুন। প্রতিবাদের আঁচ লেগেছে এপার বাংলাতেও। সেদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারি, ভারতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এপার বাংলার মানুষও। দাবী উঠেছে বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের। এমন পরিস্থিতিতে এবার বাংলাদেশি শাড়ির দোকানে ঝুলল তালা।
৬ ডিসেম্বর থেকে দুর্গাপুরের রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে শুরু হয়েছে ‘দুর্গাপুর উৎসব’। সেই মেলার উদ্যোক্তা দুর্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স। সেই মেলায় নানান দোকানের পাশাপাশি দেখা মিলেছিল এক বাংলাদেশি কাপড়ের দোকানের। দোকানের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ব্যানার ছিল। যদিও দোকানে কোনও বাংলাদেশি ছিলেন না। ওই দোকানের বিক্রেতা পূর্বস্থলীর বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
সেই দোকানে বিক্রি হচ্ছিল ঢাকাই জামদানি, মসলিন ও রাজশাহি সিল্ক, তাঁত-সহ বাংলাদেশের নানান ধরণের শাড়ি। কিন্তু সেই দোকান নিয়ে আপত্তি জানান মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। বাংলাদেশের ওই দোকান নজরে আসতেই তা নিয়ে প্রতিবাদ করেন মেলায় আসা লোকজন। কেন মেলায় বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের দাবী কেন জানাচ্ছেন না বাকি ব্যবসায়ীরা, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশৃঙ্খলার মাঝে বন্ধ করে দেওয়া হয় সেই দোকান।
গতকাল, রবিবার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের একটি মিছিল থেকে দুর্গাপুরের মেলার ওই বাংলাদেশি দোকান নিয়ে মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। বলেন, “এই মেলা বকলমে তৃণমূল পরিচালনা করে। তাদের মদত ছাড়া এই দোকান বসতে পারে না। রাজ্যের মন্ত্রী, তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে বলব অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। না হলে বিজেপি ওই দোকানে গিয়ে ভাঙচুর চালাবে। প্রতিবাদ করবে”।
দোকান বন্ধ করা নিয়ে দোকানের ম্যানেজার শামসুর রহমানের দাবী, “আমাদের পূর্বস্থলীতে বাড়ি। আমরা দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করছি। আধার কার্ড, প্যান কার্ড – সবই আছে এই দেশের। দু পয়সা রোজগারের জন্য মেলায় আসি। মালিকের কথামতো আমরা বাংলাদেশের পতাকা দেওয়া ব্যানার লাগিয়েছিলাম। এখানকার লোকজন বলতেই সেটা আমরা আগেই খুলে দিয়েছি। এখন মেলা কমিটি দোকান বন্ধ করতে বলছে। তাই দোকানও রবিবার দুপুর থেকেই বন্ধ করে দিলাম”।
অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এত ভালো একটা দুর্গাপুর উৎসব চলছে, সেখানে বিরোধীরা চক্রান্ত করছে। এখানে কোনও অশান্তি হতে দেব না। একটি দোকান নিয়ে বিতর্ক দেখা দেওয়ার পরই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অযথা ধর্ম নিয়ে এই রাজ্যে রাজনীতি করার সুযোগ দেব না বিজেপিকে”।
এই বিষয়ে দুর্গাপুর উৎসব কমিটির সম্পাদক প্রবীর ঘোষাল বলেন, “প্রচারের জন্য হয়তো ব্যানার লাগিয়েছিল। ওরা কেউই বাংলাদেশের নাগরিক নন। আমাদের দেশের নাগরিক। বিতর্ক হওয়ায় দোকান বন্ধ করা হয়েছে”।






