মে ৯ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের পর প্রথমবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হল। ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুডখোলা গাড়িতে পৌঁছে হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান। সেই মঞ্চেই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে রবীন্দ্রজয়ন্তী নির্বাচন করাও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। নতুন সরকার গঠনের এই মুহূর্তে টলিউডের একাংশে আশার সুর শোনা গেল, অন্যদিকে একাংশে ছিল সতর্ক ও পরিমাপ করা দৃষ্টি।
অভিনেতা কৌশিক সেন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “নতুন সরকার বড় ভোটের ব্যবধান দিয়ে এসেছে, আশা করি তারা পুরনো সমস্যার সমাধান করবে এবং রাজ্যকে আরও উন্নত করবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি জরুরি।” কৌশিক মনে করেন, সরকারি সুবিধা শহরের মানুষের চেয়ে গ্রামীণ মানুষের বেশি প্রয়োজন, তাই তাদের জীবনমান উন্নয়নের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
অভিনেত্রী মানসী সিনহাও নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদী। তিনি বলেন, “গত পনেরো বছরে রাজ্যের শিরদাঁড়া ভেঙে গিয়েছে এবং সিন্ডিকেট রাজনীতি বেড়েছে। নতুন সরকার যেন একটি সুস্থ ও বসবাসযোগ্য রাজ্য গড়ে তোলে। সরকারি স্কুলগুলো যেন তাদের হারানো মর্যাদা ফিরে পায়।” মানসী আরও বলেন, জনগণের সন্তুষ্টিই সরকারের বড় পরীক্ষা। একবার জনগণ তাদের ভোট দিয়ে বার্তা দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সরকারের কর্মক্ষমতা সেই মানদণ্ডে বিচার হবে।
আরও পড়ুন: “ন্যায় আর অন্যায়ের বিচারে কোনো পক্ষপাত চলবে না, নাগরিকরাও সচেতন হোক আর সরকারও সততা বজায় রাখুক” শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠান থেকে, রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে মমতা শঙ্করের কড়া বার্তা!
ঊষসী চক্রবর্তীও নতুন সরকারের প্রতি আশার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার এসেছে, আশা করি তারা জনগণের ভরসার মূল্য দেবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বৈচিত্র্যময়, নানা ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, শান্তি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। টলিউডে কাজের পরিবেশকে সুষ্ঠু করতে নতুন সরকারকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রবীণ অভিনেতা চন্দন সেন নতুন সরকারের বিষয়ে সতর্ক। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যের মোদি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড দেখে আশা করা মুশকিল। আসল চেহারা বোঝা যাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর।” চন্দন মনে করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন সরকারের প্রকৃত কার্যক্রম স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, টলিউডের কিছু শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবী রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করছেন, যা শিল্পী মহলে নজরকাড়া বিষয়। নতুন সরকারে আশা ও সতর্কতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।






