রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের একাধিক নেতা, কাউন্সিলর এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি, তোলাবাজি, হুমকি, বেআইনি ব্যবসা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। কোথাও জমি দখল, কোথাও কাটমানি, আবার কোথাও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ। এবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। খোদ এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে দিনের পর দিন মধুচক্র চলছিল বলে অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ থানার কালুপুর পাঁচপোতা এলাকায়। অভিযোগের তির বনগাঁ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুকুমার রায়-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িতে বাইরের মহিলা ও পুরুষদের আনাগোনা চলছিল। মাঝরাত পর্যন্ত পার্টি, মদ্যপান এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। সোমবার দুপুরেও নাকি একই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে। অভিযোগ, কাউন্সিলরের ঘরের ভিতরে দুই মহিলা এবং কয়েকজন যুবককে দেখা যায়। সেখানে মদ্যপানও চলছিল বলে দাবি করেন এলাকাবাসীরা। প্রথমে তাঁরা কাউন্সিলরকে সতর্ক করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় এলাকার মানুষ সরাসরি বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘরের ভিতরে ঢুকে তাঁরা দুই মহিলাকে দেখতে পান। পাশাপাশি এক ব্যক্তি এবং কাউন্সিলরকে সেখানে বসে মদ্যপান করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ। পরে ওই মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের বাড়ি নদিয়ার শান্তিপুর এলাকায়। অভিযোগ, কাউন্সিলরের ডাকে তাঁরা সেখানে এসেছিলেন। ঘটনার পর এলাকাবাসী কাউন্সিলর এবং আরও এক যুবককে আটকে রেখে বনগাঁ থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই মহিলা, কাউন্সিলর এবং আরও এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভও দেখান। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “প্রায়ই বাইরে থেকে লোক আসত। রাতভর পার্টি চলত। আমরা অনেকদিন ধরেই সন্দেহ করছিলাম। সোমবার দুপুরে হাতেনাতে ধরে ফেলেছি।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর সুকুমার রায়, তিনি স্বীকার করেছেন যে বাড়িটি তাঁরই। তবে তাঁর দাবি, শান্তিপুর থেকে আসা দুই মহিলা ঘর ভাড়া নেওয়ার জন্য সেখানে এসেছিলেন। মধুচক্র চালানোর অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেন তিনি। আটক হওয়া যুবকও জানান, কাউন্সিলর তাঁর কাকা হন এবং মাঝে মাঝেই তিনি সেখানে যেতেন। সেদিন দুপুরে শুধু বসে মদ্যপান করা হচ্ছিল বলেই দাবি তাঁর। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বনগাঁ থানার পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ “তোমার মতো নোং’রা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের…” অঙ্কিতার অভিযোগে উত্তাল টলিউড! দেবালয় পোস্ট মুছে ফেলার কী কারণ জানালেন অভিনেত্রী?
এদিকে বনগাঁর এই ঘটনার মধ্যেই দমদমের নাগেরবাজার থেকেও উঠে এসেছে একই ধরনের অভিযোগ। সেখানে স্পা-এর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা চলছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ১০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের মদতেই এই ব্যবসা চলছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরপর এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, এতদিন সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি, কিন্তু এখন একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, বিরোধীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই ধরনের অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা করছে।






