সকালটা যখন শুরু হয় চা-কফির কাপে চুমুক দিয়ে, তখন সাধারণ মানুষের একটাই স্বপ্ন — স্থায়ী একটা চাকরি। একটা নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস, যা দিয়ে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব সামলানো যায়। মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানো যায়। সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়ানো যায়। আর নিজেদের ভবিষ্যৎটাও একটু নিশ্চিন্ত করা যায়। কিন্তু কল্পনা করুন তো, সেই স্বপ্নের চাকরি যদি এক নিমেষে কেড়ে নেওয়া হয়? জীবন তখন কতটা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে?
এই শহরের এক বড় অংশের জীবন আজ সেই অন্ধকারেই ডুবে রয়েছে। বছরের পর বছর পড়াশোনা, কোচিং, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ — সব পেরিয়ে একটা চাকরি যখন কাঁধে এসেছিল, তখনই তা চলে গেল আইনি জটিলতার কারণে। যাঁরা কখনও ভাবেননি, আবার রাস্তায় নামতে হবে, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে প্রতিবাদ করতে হবে, তাঁরাও আজ পথে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একঝটকায় চাকরি হারিয়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী।
সেই চাকরিহারাদেরই আন্দোলন আজ ফের উত্তাল করে তুলেছে রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ করুণাময়ী থেকে শুরু হয়েছে তাঁদের মিছিল। গন্তব্য এসএসসি ভবন। যদিও পরিস্থিতি আঁচ করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে পুলিশে। চারদিক ব্যারিকেড, নিরাপত্তা জোরদার। পুলিশ সূত্রের খবর, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তৈরি আছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তবে চাকরিহারাদের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। এই অভিযানের মধ্যেই বড় প্রশ্ন, এই লড়াই কি আদৌ কোনও সুরাহা আনবে?
আশার আলো রয়েছে আরেকদিকে। কারণ, এদিনই বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন চাকরিহারাদের প্রতিনিধি দল। উপস্থিত থাকবেন এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারও। জানা গিয়েছে, প্রায় ৭-৮ জন চাকরিহারাদের প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেবেন। তাঁদের প্রধান দাবি, দ্রুত নতুন মেধাতালিকা প্রকাশ করে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ Weather update : চৈত্রের শেষেই বর্ষার আমেজ! নববর্ষের আগে বাংলায় বৃষ্টির চমক, কোন কোন জেলায় পাওয়া যাবে বৃষ্টির ছোঁয়া?
তবে আজকের সবথেকে বড় উত্তেজনার জায়গা একটাই — এই বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত আসবে? আদৌ কি কোনও সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবে? নাকি আন্দোলন আরও দীর্ঘতর হবে? কারণ, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে বাতিল করেছে। ফলে ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা, গ্রুপ C ও গ্রুপ D কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। বিকাশ ভবনের বৈঠকে যদি কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত না মেলে, তবে আগামী দিনে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের ঝড় আরও তীব্র হবে বলেই আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক মহল। এখন সমস্ত চোখ তাই বিকাশ ভবনের বৈঠক ঘরের দিকেই।






