তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে কলকাতার বাড়ি! ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাসিন্দারা!

কলকাতা(kolkata) শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় হেলে পড়া এবং বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়িগুলোর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফিরহাদ হাকিম আগেই বলেছিলেন যে শহরে প্রায় ৩০টি হেলে পড়া বাড়ি রয়েছে কিন্তু সেটা নিয়ে চিন্তার কোন বিষয় নেই। কিন্তু ইতিমধ্যে ছটি বাড়ি ভেঙে পড়েছে, ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাগুইআটি, ট্যাংরা, বাঘাযতীনসহ নানা এলাকায় এই ধরণের ঘটনা ঘটছে, যা আশপাশের মানুষদের কাছে এক বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাঘাযতীনের বিদ্যাসাগর কলোনিতে একটি চারতলা বাড়ির ভেঙে পড়া। বাড়িটি হেলে পড়ার পর পাশের বাড়িতে চলে আসে, যার কারণে কিছু বাসিন্দা তাদের বাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। একইভাবে, টেংরা এলাকায় দুটি বাড়ি হেলে পড়ার পর, কলকাতা পুরসভা তাদের ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে। এসব ঘটনার ফলে কলকাতার বাড়ির অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরে বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা ৪,০০০টিরও বেশি হতে পারে।

কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যে বিপজ্জনক বাড়িগুলির তালিকা তৈরি করে তাদের ভাঙার কাজ শুরু করেছে। তবে, শহরের মোট বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা খুবই বেশি, যার মধ্যে অতি বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা ৪০০টি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরসভা এই বাড়িগুলির সংস্কার ও মেরামতের জন্য মালিকদের কাছে নোটিস পাঠানোর কাজও শুরু করেছে। তবে এই সমস্যার মোকাবেলায় আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান উঠেছে। বাড়ির মালিকদেরও তাদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হতে হবে এবং নিয়মিতভাবে সংস্কারের কাজ করতে হবে। একদিকে সরকারের কার্যক্রম চলছে, অন্যদিকে বাসিন্দাদেরও তাদের আশপাশের পরিবেশের প্রতি সচেতন থাকতে হবে, যাতে বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক! মায়ের মৃত্যুর ১২৩ দিন পর জন্ম নিল জমজ সন্তান!

এমন পরিস্থিতিতে, সরকারের দায়িত্ব এবং পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ির মালিকরা কর্তৃপক্ষের সতর্কীকরণ সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, যার ফলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। সরকারও দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে। এই অবস্থায়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে আদৌ কি কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর