রাজ্য সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন তাদেরই দলের লোকজন। এই কারণেই একের পর দলবদলের ঘটনা কানে আসছে। কিন্তু এইভাবে পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে পারে না। এর মীমাংসা দরকার। এই কারণেই বিধানসভায় আস্থা ভোটের প্রস্তাব জারি করা হয়েছে। এই আস্থা ভোটে বিজেপির সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে কোনও আপত্তি নেই বাম-কংগ্রেসের। অন্তত, বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বামনেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট।
গতকাল বৃহস্পতিবার, বিধানসভা ভবনের একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দুই বিরোধী দলনেতাই দাবী করেন যে শাসকদলের মন্ত্রী ও বিধায়কেরা যেভাবে একের পর এক দল ছাড়তে শুরু করেছে বা যেভাবে তাঁরা নিজের দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে, তাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই তাদের দাবী, সরকারের উচিত বিধানসভার অধিবেশন ডেকে আস্থা ভোটের ব্যবস্থা করা।
এবার প্রত্যাশিতভাবে আস্থা ভোট হলে তাঁরা যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন, তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। এদিকে, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবে বিজেপিও। তাই এবার প্রশ্ন উঠছে যে, তবে কী আস্থা ভোট হলে বিজেপির সঙ্গে একজোটেই মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবে বাম-কংগ্রেস?
এই প্রশ্ন উঠলে আব্দুল মান্নান বলেন যে তাঁরা বেশ কিছু বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সমর্থন করেছেন বলে এই নয় যে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই যেমন ছিল, তেমনই অব্যাহত থাকবে। বিজেপি আস্থা ভোটে কী করবে, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যাথা নেই। অন্যদিকে, সুজন চক্রবর্তীও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন যে, রাজ্য কী আস্থা ভোটে ভয় পাচ্ছে? সরকারের উপর আদৌ তাদের বিধায়করা আস্থা রাখেন কী না, তা বিধানসভাতেই বিচার হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারকে সমর্থন করে বিজেপির বিরোধিতা করেছিল বাম ও কংগ্রেস। তাছাড়া, কেন্দ্রের আরও অনেক সিদ্ধান্তকেই নাকোচ করে রাজ্য সরকারের সমর্থনে ছিল উক্ত বিরোধী দুই দল। কিন্তু বিধানসভায় সরকার আস্থা ভোট করলে, সেই বিষয়ে যে বাম-কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে মিলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তা বেশ স্পষ্ট।






