শনিবার দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর হাসি ফিরেছে সেই সব পড়ুয়াদের মুখে, যারা প্রায় এক মাস ধরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিচার দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামানের মুখেও তাঁরা পিছিয়ে যাননি। এই ঘটনার পর ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন বলে খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান অভিনেতা জিতু কমল। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, এই সিদ্ধান্তকে তিনি দেশের যুবশক্তির জয় বলে মনে করছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নতুন আলোচনা।
জিতু কমল তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ভালো কাজের প্রশংসা করার অভ্যাস সবার থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের কিছু বিজেপি বিধায়কের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, উপরিভাসী মনোভাব ছেড়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। তাঁর কথায়, বিশেষ করে কিছু “খুদে খুদে” বিধায়কের আচরণ বদলানো দরকার। তিনি পরামর্শ দেন, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করা উচিত। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মানুষ কোনো রাজনৈতিক নেতার গোলাম নয়। তাই পক্ষপাত, গুন্ডাপোষণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
নিজের পোস্টে জিতু আরও বলেন, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি নিয়েই জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাই সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা উচিত। তিনি মনে করিয়ে দেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং আজ থেকে সাড়ে চার বছর পর আবার ভোটের সময় মানুষের কাছেই হাতজোড় করে সমর্থন চাইতে হবে। সেই সময় মানুষ বর্তমান আচরণ ভুলে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই তিনি ক্ষমতার অহংকার নয়, মানুষের সেবাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই মন্তব্যের পর বহু নেটিজেন পোস্টটির সঙ্গে একমত হয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: “আমিই পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র অভিনেত্রী যে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছে!” বিগ-বি’র বিপরীতে বলিউডে ডেবিউ, ‘সৌরবংশম’ ছবির পর কেন আর হিন্দিতে দেখা গেল না রচনা বন্দোপাধ্যায়কে? অভিনেত্রী জানালেন আসল কারণ?
জিতুর পোস্টের নীচে একাধিক মন্তব্যও চোখে পড়ে। একজন লেখেন, “আল্টিমেটলি জনতাই জনার্দন। এবার শিক্ষা নিয়ে কাজটুকু ঠিকভাবে করুক দুই সরকার।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এটা তো নতুন কথা নয়, বাঁশের থেকে কঞ্চি বেশি লম্বা হয়। জমিদার যত না বলে তার মোসাহেবগণ বেশি বলে। চিরদিন এই প্রথা চলে এসেছে। এর নাম সমাজ।” অন্য এক ব্যবহারকারী লেখেন, “সমবেত কণ্ঠের জয়, নব প্রজন্মের ইতিবাচকতার জয় এবং জনস্বার্থ রক্ষার মানসিকতার জয়। তোমাকে ধন্যবাদ, এই খবর প্রথম তোমার থেকেই জানলাম। যাদের উদ্দেশে লিখেছ তারা বুঝলে ভালো, না বুঝলে মানুষ আবার একজোট হবে।” এই সব মন্তব্যে অভিনেতার বক্তব্যের প্রতি সমর্থনের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমি ব্যথিত। যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলি যাতে তার সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে, কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের সন্তানেরা যাতে কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে পারে, সেই কথা ভেবেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও লেখেন, “কিছু মানুষ পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং বাধা সৃষ্টি করেছেন, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। দেশসেবাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিজেকে উৎসর্গ করে যাব।”






