সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজ্যে কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলি। এর আগে কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত হয়েছেন তৃণমূল নেতা বিনয় মিশ্র। এরপর তাঁর ঘনিষ্ঠদের বাড়ি ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতে শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আজ সকাল থেকেই একযোগে মোট ১২টি জায়গায় ইডি তল্লাশি শুরু করেছে বলে খবর রয়েছে।
এদিন দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার একটি আবাসনে হানা দেয় ইডি। জানা গিয়েছে ফ্ল্যাটটি বিশ্বজিৎ মালাকার নামের এক ব্যক্তির। তাঁর বাবা একজন ইসিএলের কর্মী। কয়লা পাচার কাণ্ডে বিশ্বজিৎ মালাকার ও তাঁর বাবা সরাসরি যুক্ত বলেই খবর মিলেছে।
কয়লা পাচার কাণ্ডে উঠে এসেছে বেশ কিছু ইসিএল কর্মী ও আধিকারিকদের নাম। এদের প্ররোচনাতেই বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন ও পাচার হত। কয়েকজন ইসিএল কর্মীদের এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেরা করা হলে গড়িয়ার এই মালাকার ইসিএল কর্মীর নাম ওঠে। এও জানা যায় যে তাঁর ছেলে পেশায় ব্যবসায়ী। দুবাইতে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর।

কিছুদিন আগে এই ফ্ল্যাটেই হানা দেয় আয়কর দফতর ও সিবিআই। তবে ওই ফ্ল্যাটে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুজোর পর থেকেই তারা ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। মাঝেমধ্যেই ওই ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে নানা পার্সেল আসত বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বজিৎ মালাকার কয়লা পাচার করে তার থেকে প্রচুর অর্থ দুবাইতে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতেন।
বিশ্বজিৎ মালাকার ছাড়াও এদিন লেকটাউনের গনেশ বাগারিয়ার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। এছাড়াও, বিনয় মিশ্রের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী অমিত সিঙ্গ নীরজ সিং-এর বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি আধিকারিকরা। এই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে দুই ভাই। এদের বাড়ি থেকে কয়লা পাচার কাণ্ডের বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে জানা গিয়েছে।

কয়লা পাচার কাণ্ডের জন্য শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কয়লা পাচার কাণ্ড বেশ বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করাই যায়। ইতিমধ্যেই, শাসকদলের বেশ কিছু নেতার নাম জড়িয়েছে এই মামলায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মামলার জল আরও কতদূর গড়ায় বা শাসকদলের আরও কোনও বড় নেতৃত্বের নাম উঠে আসে কী না, এখন সেটাই দেখার।






