ছেলের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এই দুঃখ সহ্য করা যে কোনও বাবা-মার পক্ষেই সীমাহীন। কিন্তু তা সত্বেও মানবিকতার নজির রাখলেন এক বাবা। ছেলের মৃত্যুর পরই প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি জন্য দেহ আরজি কর হাসপাতলে দান করলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দা সৈকত পালের মৃত্যু হয় করোনা আক্রান্ত হয়ে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। মৃত্যু হয় সৈকত পালের।
আর তারপরই সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তাঁর বাবা সরোজ পাল। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি মরণোত্তর চক্ষুদান ও অঙ্গ দান সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই করোনা আক্রান্ত হয়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে জানার পরই, বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত ময়নাতদন্তের জন্য দান করলেন ছেলের দেহ। সৈকত নাকি নিজেও এমন ইচ্ছা রাখত বলেই জানিয়েছেন সরোজ বাবু।
প্রসঙ্গত, প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সির ফলে দুরারোগ্য রোগ বা সংক্রমণ জনিত রোগে মৃত্যু হলে মৃতের শরীরের ময়নাতদন্ত বা কাটাছেঁড়া করে দেখা হয় কী থেকে রোগ ছড়িয়েছে, কী ধরনের রোগ ছিল সেটা, এবং শরীরে কি জাতীয় প্রভাব বিস্তার করেছে। সংক্রমণজনিত অসুখে মৃত্যু হলেই প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি করে থাকেন ডাক্তাররা। এই রিপোর্ট পরে গবেষণার কাজে লাগে।






