একই ছাদের নীচে একাধিক ‘ক্ষতিপূরণ’ থেকে কা*টমানির অভি’যোগ! আমফান ত্রাণে ২৫০ কোটির দু*র্নীতির FI’R ঘিরে ফের চাপে ‘ভাইপো’! ভবিষ্যতে কি তদন্তে বেরিয়ে আসবে বড় কোনও সত্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরু*দ্ধে?

রাজ্যের রাজনীতিতে ফের নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক আইনি জটিলতা ও অভিযোগের আবহে এবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হল আরও একটি এফআইআর। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘোষিত ত্রাণ প্রকল্প। অভিযোগকারীদের দাবি, ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই অনিয়মের জেরে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ বেআইনিভাবে বিতরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

অভিযোগ অনুযায়ী, আমফানের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ প্রকল্প চালু করেছিল। সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা এবং আংশিক ক্ষতির ক্ষেত্রে মেরামতির জন্য পৃথক আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময় বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন সঠিকভাবে করা হয়নি। বরং এমন বহু বাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেগুলি বাস্তবে পাকাবাড়ি এবং বড় ধরনের কোনও ক্ষতির সম্মুখীনই হয়নি। এর ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে অন্যদের অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এফআইআরে আরও দাবি করা হয়েছে, একই বাড়ি বা একই ছাদের নীচে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তির নামে পৃথকভাবে আর্থিক সাহায্য মঞ্জুর করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এই পদ্ধতিতে একই সম্পত্তির জন্য একাধিকবার সরকারি অর্থ তোলা হয়েছে, যার ফলে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে। শুধু তাই নয়, তদন্তের দাবিতে জমা দেওয়া নথিতে এমন কিছু তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে একটি মোবাইল নম্বরের সঙ্গে একাধিক সুবিধাভোগীর নাম যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এই ধরনের তথ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। পাশাপাশি ত্রাণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়ের অভিযোগও সামনে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে আচমকাই এক সাধারণের বাড়িতে ঢুকে পড়লেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! তারপর যা করলেন বিধায়ক তা দেখে অবাক সকলে! কারণ জানলে চমকে যাবেন আপনিও!

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির দাবি তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের আবেদন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে বৃহত্তর দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে। তাই পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ডায়মন্ড হারবারের মতো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটিতে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, এটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা একমাত্র অভিযোগ নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় অভিযোগকারী বিজেপি নেতা ববি দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে তাঁর উপর হওয়া প্রাণঘাতী হামলার পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের আবহে রাজনৈতিক চাপানউতোর যেমন বাড়ছে, তেমনই গোটা বিষয়টির তদন্ত কোন দিকে এগোয় সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

আরও অন্যান্য খবর