নিশ্চিন্তভাবে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি, শেষ মুহূর্তের রিভিশন, পরিবারের আশীর্বাদ—এই সবকিছুর মধ্যেই যখন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার অর্থাৎ মাধ্যমিকের প্রথম দিনে কলম ধরতে বসেছে, ঠিক তখনই আচমকা এক ঘটনায় কেঁপে উঠল একটি পরীক্ষা কেন্দ্র। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক, ছুটোছুটি আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার হলে বসে থাকা পড়ুয়াদের অনেকেই বুঝে উঠতে পারেনি, হঠাৎ কী ঘটছে।
প্রথমে সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিল। বাইরে অভিভাবকদের অপেক্ষা, ভেতরে পরীক্ষার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পরিচিত চিত্র। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তগুলোতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। স্কুল চত্বরে হঠাৎ আগুনের গন্ধ, তারপরই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনও রকম দেরি না করে এগিয়ে আসেন। তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সাহসী পদক্ষেপই যে বড় দুর্ঘটনা আটকাবে, তা তখনও অনেকের অজানা ছিল।
এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের নাককাটি গাছ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ২০২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছিল। বালাভূত হাই স্কুল, বালাভূত বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ এবং কৃষ্ণপুর স্কুলের পরীক্ষার্থীরা ওই কেন্দ্রেই উপস্থিত ছিল। জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর মিনিট দশেক আগে স্কুল সংলগ্ন ক্যান্টিনে চা তৈরির সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডারে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে।
আগুন লাগা সিলিন্ডারটি স্কুল ভবনের কাছে থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সেই সময়ে পুলিশ কর্মীরাই জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি টেনে দ্রুত স্কুল ভবন থেকে দূরে, মাঠের মাঝখানে নিয়ে যান। ভিজে বস্তা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় তুফানগঞ্জ দমকল কেন্দ্রে। তবে দমকল বাহিনী পৌঁছনোর আগেই বিকট শব্দে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। সেই শব্দে আতঙ্কিত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মাঠে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : “সকাল থেকে বঙ্গ ভবন ঘিরে রাখা হয়েছে, এটা আমাদের অধিকার লঙ্ঘন করছে”—মমতার সরাসরি চ্যালেঞ্জ দিল্লিতে! সংসদে কল্যাণের প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা রাজনীতিতে!
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি, এসডিপিও কান্নেধারা মনোজ কুমার-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল বসাক জানান, পুলিশের তৎপরতার কারণেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বিস্ফোরণ ফাঁকা মাঠে হওয়ায় কেউ আহত হননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা আবার শান্তভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অভিভাবকরা। ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ।





