পার্থর নামে কেনা ফ্ল্যাটের ভাড়াটে মহিলা দেহব্যবসায়ী, চলত অসামাজিক কাজ, মাঝেমধ্যেই যেতেন পার্থ-অর্পিতা, মধুচক্রের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী?

বর্তমানে রাজ্য এখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েই উত্তাল। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি গ্রেফতার করেছে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রীকে। এরই মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নাম উঠে এসেছে তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের। অর্পিতার বাড়ি থেকে ইডি উদ্ধার করেছে ২১ কোটি টাকা ও ৫০ লক্ষ টাকার বেশি গয়না। অর্পিতাকেও গ্রেফতার করেছে ইডি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর একের পর এক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। কিছু সম্পতি রয়েছে তাঁর নিজের নামে আবার কিছু নাম ভাঁড়িয়ে কেনা। এরই মধ্যে হদিশ মিলেছে একটি সম্পত্তির, মাদুরদহের পূর্বায়ন আবাসনের একটি ফ্ল্যাট। জানা গিয়েছে, এই পূর্বায়ন আবাসনের একটি চারতলা ফ্ল্যাটের গোটা ফ্ল্যাটটিই কিনেছিলেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এমনকি, এও অভিযোগ এসেছে যে দালালের মাধ্যমে তিনি এই ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তাঁকে কোনও টাকাই দেন নি তিনি।

তবে আশ্চর্য হওয়ার বিষয় এটা নয়। এই ফ্ল্যাটে কারা থাকতেন, বা কী কাজকর্ম চলত এই ফ্ল্যাটে, সেটাই আসল ঘটনা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ফ্ল্যাটের একতলা ও দোতলায় ভাড়া থাকতেন বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক। তবে তিনতলা নিয়ে রয়েছে বেশ রহস্য।

জানা গিয়েছে, এই ফ্ল্যাটের তিনতলায় ভাড়া থাকতেন এক মহিলা যিনি দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আবাসনের প্রতিবেশীদের কথা অনুযায়ী, এই মহিলা সন্ধ্যের পর বাড়ি থেকে বেরতেন আর ফিরতেন মাঝরাতে। মাঝেমধ্যেই কিছু ব্যক্তিকেও সেখানে আসা-যাওয়া করতে দেখা যেত বলে জানান প্রতিবেশীরা।

আর সবথেকে চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা হল, এই ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যেই দেখা মিলত পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের। প্রতিবেশীদের অনুমান, এই ফ্ল্যাটে অসামাজিক কাজকর্ম চলত। আরও আশ্চর্য করার মতো বিষয় হল, যেদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ইডি হানা দেয়, অর্থাৎ শুক্রবার, সেদিন রাতেই ওই ভাড়াটে মহিলা ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান আর নিরাপত্তারক্ষীদের বলে যান যে তাঁর বাড়ি পঞ্জাবে, তাঁর বাবা অসুস্থ তাই তিনি বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

এদিকে, যে ব্যক্তির থেকে ওই মহিলা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তি জানিয়েছেন যে মহিলা তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি সরকারি চাকুরীজীবী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে এই ফ্ল্যাটে পার্থ ও অর্পিতা কেন আসতেন। কী সম্পর্ক ছিল ওই দেহব্যবসায়ী মহিলার সঙ্গে মন্ত্রীর বাঁ তাঁর বান্ধবীর? অনেকেরই অনুমান, সকলের নজরের আড়ালে পার্থর এই ফ্ল্যাটে চলত মধুচক্র। তাহলে কী মন্ত্রী নিজেও এই মধুচক্রের সঙ্গে জড়িত? এ নিয়েও উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে সেরকম কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।

আরও অন্যান্য খবর