বড় চাপের মুখে তৃণমূল বিধায়ক! দেশ-বিদেশে থাকা মানিকের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করুক সিবিআই, কড়া নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে (recruitment scam) ধৃত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের (Manik Bhattacharya) সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Avijit Ganguly) নির্দেশ দেন যে রাজ্য, দেশ ও বিদেশে মানিক ভট্টাচার্যের যত সম্পত্তি রয়েছে, তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

এর আগেও দুটি মামলায় জরিমানা করা হয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যকে। এক মামলায় ২ লক্ষ ও অন্য একটি মামলায় ৭ লক্ষ টাকার জরিমানা করা হয় তাঁকে। কিন্তু সেই জরিমানার টাকা এখনও দেন নি মানিক। সেই জরিমানার টাকা অনাদায়ের এবার তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুতই মানিকের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে সিবিআই।

মায়ারানি পাল নামের এক চাকরিপ্রার্থীর করা মামলায় মানিককে জরিমানা করে আদালত। ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষা দেন মায়ারানি পাল। কিন্তু ৬ বছর কেটে গেলেও ফলাফল জানতে পারেন নি তিনি। সেই কারণে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলাকারীর অভিযোগ, টেটের ফল জানতে পারেন নি বলে তিনি ২০১৬ ও ২০২০ সালে দু’টি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন নি।

সেই সময় পর্ষদের সভাপতি ছিলেন মানিক ভট্টাচার্য। সেই কারণে ওই মামলায় মানিককে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন যে পরীক্ষার ফল জানার অধিকার সব প্রার্থীদের রয়েছে। কিন্তু পর্ষদের শীর্ষপদে এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যার জন্য এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্য একটি মামলায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় মানিককে। ২০১৭ সালে সহিলা পারভিন নামের এক মহিলা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নিজের উত্তরপত্র দেখতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। এর জন্য টাকা দিয়েই আবেদন করেন ওই মহিলা। কিন্তু অভিযোগ, তাঁকে যথাযথ উত্তরপত্র দেয় নি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আর এর জন্য ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় মানিক ভট্টাচার্যকে।

কিন্তু উক্ত দুই মামলার কোনও ক্ষেত্রেই জরিমানার টাকা জমা করেন নি মানিক ভট্টাচার্য। শুধু তাই-ই নয়, তিনি সেই টাকা জমা করতে অপারগ, তাও আদালতে আবেদন করে জানান নি তিনি। সেই জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও অন্যান্য খবর