রাজ্যসভা ইস্তফা দিলেও কেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আটকে কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ? উপরাষ্ট্রপতি ভবনের নতুন নির্দেশে কী জটিলতা তৈরি হল?

অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। জানা যায়, তিনি ইমেইল মারফত নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পদত্যাগপত্র আদৌ গ্রহণ করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়েছে, পদত্যাগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংসদকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কোয়েলের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিকের পক্ষ থেকে ভিপি হাউসে দেখা করার জন্য কোনও সময় চাওয়া হয়নি। ফলে তাঁর ইস্তফা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে কোয়েলকে কখনও সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। হঠাৎ করেই তাঁর রাজ্যসভায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছিল। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সেই সময় অভিনেত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুরাগী মহলও চমকে গিয়েছিল।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তালিকায় একাধিক পরিচিত নামের সঙ্গে জায়গা পান কোয়েল মল্লিকও। তালিকায় ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের মতো ব্যক্তিত্বরা। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার কিছুদিন আগেই কোয়েলের বাবা রঞ্জিত মল্লিকের ভবানীপুরের বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর থেকেই কোয়েলের রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা চলতে থাকে।

এরপর এপ্রিল মাসে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেন কোয়েল মল্লিক। শপথগ্রহণের পর তিনি জানিয়েছিলেন, এটি তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেছিলেন, “অনেক ভেবেচিন্তে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা নয়। এটা একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা। এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।” তাঁর এই বক্তব্য সেই সময় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর নতুন ভূমিকাকে ঘিরে কৌতূহলও তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘ওপেন ম্যারেজ’ বিতর্কে চর্চার কেন্দ্রে জনপ্রিয় তারকা দম্পতি! নায়কের মন মজেছে অন্য নারীতে, আর নাকি রাখতে চান না বিবাহিত তকমা! কাদের বিচ্ছেদ গুঞ্জনে সরগরম টলিপাড়া?

অন্যদিকে, কোয়েলের রাজ্যসভায় যাওয়া নিয়ে তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিকও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “কোয়েল বড় হয়েছে। বুঝদার মেয়ে। ওকে আলাদা করে বলার কিছু নেই। খুবই বুদ্ধি নিয়ে কাজ করে। এক্ষেত্রেও তেমনই করবে। বাবা হিসাবে যা যা বলার সেটুকু বলেছি। সৎ পথে থেকে ভাল কাজ করুক, এটুকুই চাওয়া।” তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় পরিবর্তনের আবহে কোয়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তিনি রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন নাকি নতুন কোনও অবস্থান নেবেন, সেই উত্তর এখনও অনিশ্চিত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর