Mamata Banerjee: “পাঞ্জাবের পাশে পাকিস্তান, আমাদের পাশে বাংলাদেশ তো আমরা তৈরি করিনি” – বর্ধমান সভায় কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বর্ধমানের জমকালো সভা থেকে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের ‘বাঙালি অস্মিতা’ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল। বছরের পর বছর চলে আসা রাজ্যের বড়ো ইভেন্টগুলোর আগে এই বার্তা যেন রাজ্যের মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, বাঙালি পরিচয় ও ভাষার মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল সভায় উঠে এ বিষয়কে নতুন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরলেন।

মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য শুরু করেন রাজ্যের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে। তিনি বলেন, “বছর ঘুরলেই বাংলায় বড়ো ইভেন্ট হয়। কিন্তু আমাদের ‘বাঙালি অস্মিতা’ আজও কতটা শক্তিশালী তা সকলকে বুঝতে হবে।” ভাষার মর্যাদা ও সংস্কৃতিকে রক্ষার আহ্বানকে সামনে রেখে তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিদেশ বা অন্যান্য রাজ্যে বাঙালি সম্প্রদায়ের ওপর যে ধরনের হেনস্থা বা অবজ্ঞা হয়, সেটিকেও আলোচনার কেন্দ্রে আনা হয়।

সভায় কেন্দ্রকে কটাক্ষ করতে গিয়ে মমতা বলেন, “এখানে নাকি সব বাংলাদেশ হয়ে গেছে। পাঞ্জাবের পাশে পাকিস্তান, পাকিস্তানেরও একটা পাঞ্জাব রয়েছে, সেকথা তো বলো না। আমাদের পাশে বাংলাদেশ তো আমরা তৈরি করিনি। আমাদের ভাষা যদি এক হয়, আমরা কী করতে পারি?” তিনি স্বাধীনতার পর দেশভাগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতের ভাগাভাগি ও পঞ্জাব এবং বাংলার বিভাজনের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বলেন, আন্দামান সেন্ট্রাল জেলে যে ৭০০-এরও বেশি বাঙালি গ্রেফতার হয়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়, তাঁদের মধ্যে ১০ শতাংশ ছিলেন পঞ্জাবী।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাকে সহ্যই করতে পারে না। বাংলা দেখলেই গা জ্বলে, আর লুচির মতো ফোলে।” সাম্প্রতিক ভিন রাজ্যে বাঙালি ভাষাভাষী শ্রমিকদের ওপর হেনস্থার ঘটনা ও বাংলাদেশি সন্দেহ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও তিনি কেন্দ্রকে প্রশ্ন তোলেন। এই ধরনের ইস্যুতে রাজ্য সরকার কার্যত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে ‘বাঙালি অস্মিতা’ আবারও তাজা আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি মিত্তির বাড়ির অভিনেত্রী!

মুখ্যমন্ত্রী সভায় আরও স্পষ্ট করে বলেন, বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তিনি কেন্দ্রকে সরাসরি কটাক্ষ করলেও, রাজ্যের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাঙালি পরিচয় ও ভাষার ইস্যু এবার শুধু সাংস্কৃতিক নয়, বরং নির্বাচনী কৌশলের অংশও হয়ে উঠেছে। সভা শেষ হলেও বাঙালি অস্মিতার এই বার্তা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং আগামী বড়ো ইভেন্ট পর্যন্ত এই বিতর্ক আগুনের মতো জ্বলতে থাকবে।

আরও অন্যান্য খবর