পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে ঘটেছে একাধিক হিংসার ঘটনা। খু’ন, বোমাবাজি, ভোট লুট, ছাপ্পা ভোট সবই ঘটেছে। প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। এই নিয়ে এবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে দুঃখপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অশান্তির জন্য বিরোধীদেরই দায়ী করেন তিনি।
কী বললেন মমতা?
পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য কার্যত বোমা ও বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। এই অশান্তি নিয়ে মুখ খুলে মমতা বললেন, “কোনও মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে বেশিরভাই মৃত্যু হয়েছে আমাদের কর্মীর। ১৯ জনের প্রাণ গিয়েছে”।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভাঙড়ে অশান্তি কীভাবে হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর দাবী, রাজ্যে যেখানে অশান্তি হয়েছে সেগুলি বরাবরই অশান্তি প্রবণ এলাকা। ম্মতাক্র কথায় রাজ্যের মাত্র দুটি জেলায় অশান্তি হয়েছে কিন্তু বিরোধীরা মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। এরপরই সকলের উদ্দেশ্যে মমতার বার্তা, “আমার আবেদন শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রাখুন। বাংলা ভাঙতে দেব না। বিজেপির প্ররোচনায় পা দেবেন না”।
কংগ্রেস ও সিপিএমকে কটাক্ষ মমতার
এদিন এই বৈঠক থেকে সিপিএম ও কংগ্রেসকেও তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “সাধ্য মতো চেষ্টা করেছি। যদি নবজোয়ার করে মানুষের ঘরে ঘরে শান্তির বার্তা না দেওয়া হত তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। যা ঘটেছে চেষ্টা করব আগামীতে যেন না ঘটে”।
তাঁর সংযোজন, “ভোটের জন্য আমাদের কর্মীদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। সকলকে অভিনন্দন। তবে ভোটে যেটুকু হিংসার ঘটনা ঘটেছে, আগামীদিনে চেষ্টা করব সেটুকুও যাতে না ঘটে। আমরা প্রশাসনিকভাবে ৯০ শতাংশ সফল হয়েছি, ১০ শতাংশ ব্যর্থ। কোথাও কোনও ভুলত্রুটি থাকলে প্রশাসনিক স্তরে পদক্ষেপ হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা”।
ভোটে হিংসা নিয়ে কী বলছে আদালত?
এদিকে আবার মালদহে নতুন করে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন দু’জন। সাগরদিঘিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে হিংসায় প্রাণ গিয়েছে ৪৮ জনের। এমন আবহে আইন শৃঙ্খলার অবনতির প্রশ্নে জনস্বার্থ মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলার শুনানি চলাকালীনই এদিন নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, আইন শৃঙ্খলার সামলাতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ন ব্যর্থ।






