‘আমরা ১০০ দিনের কাজে ১ নম্বরে আছি, সেই কারণেই টাকা বন্ধ করেছে’, ফের বকেয়া নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত মমতার

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের নানান নেতারা। এই নিয়ে ধর্নাও দিয়েছিলেন তিনি। এসবের মধ্যেই দিল্লি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন যে কেন কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করেছে। এবার সেই প্রসঙ্গে সুর চড়িয়ে কেন্দ্রের টাকা বন্ধ করার কারণ জানালেন মমতাও।

কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?

গতকাল, বুধবার হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে প্রশাসনিক সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকে ফের একবার বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। বলেব, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একাধিকবার বলার পরও বকেয়া টাকা মেলেনি। মমতার কথায়, “প্রধানমন্ত্রীকে অনেকবার বলেও লাভ হয়নি, ৩ বছরের ১০০ দিনের কাজের টাকা মেলেনি। ২১ লক্ষ শ্রমিক টাকা পাননি। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিয়েছেন। টাকা আমরা পাঠাতে শুরু করেছি। অভিষেকের নেতৃত্বে বঞ্চিতরা দিল্লি গিয়েছিলেন। ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বাসে করে গিয়েছিল। আমি ৪৮ ঘণ্টা অনশন আগে করেছিলাম। আবার করেছিলাম। আমি গরিব মানুষের জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু মনে করতে পারলে ধন্য মনে করি”।

কেন বন্ধ বাংলার টাকা?

কেন্দ্র সরকার কেন বাংলার একাধিক প্রকল্পের টাকা বন্ধ রেখেছে, সেই কারণ জানিয়ে মমতা বলেন, “আমরা MSME, স্কিল ইন্ডাস্ট্রি, গ্রামীণ রাস্তা, ১০০ দিনের কাজ, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে এক নম্বরে। তাই প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কাজ করেছেন তাদের টাকাও দেওয়া হল না”।

প্রাপ্য টাকা না পেলেও সরকার ঠিক চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কীভাবে? সেই ব্যাখ্যা দিয়েও তিনি বলেন, “বাংলার মা-বোনেরা বিপদে পড়লে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে টাকা বের করেন। মনে রাখবেন আমাকেও সরকার চালাতে হয়। সংসার চালাতে হয়। যখন প্রাপ্য টাকা পাই না, প্রাপ্য টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন মা-বোনেরা যেভাবে সংসার চালান আমিও চালাই”।

এরপরই কেন্দ্রকে তাঁর হুঁশিয়ারি, “মনে রাখবেন বাংলা মাথানত করে না”। রাজ্যবাসীকে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কাউকে বঞ্চিত হতে দেব না। চিরকাল লড়াই করে যাব”।

আরও অন্যান্য খবর