অবশেষে বঙ্গের মুখ রক্ষার জন্য করোনার সঠিক পরিসংখ্যান জানালেন মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। কেন্দ্রীয় দলের তরফে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের যে পরিসংখ্যান রাজ্য দিয়েছে তাতে বিস্তর অসঙ্গতি ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তা ছাড়া এই ব্যাপার নিয়ে আমজনতা থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দল সব স্তরেই সমালোচনা চলছিলই। অবশেষে মুখ বাঁচাতে বাংলায় এখনও পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা জানাল রাজ্য সরকার। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৯০৮ জন এখনও চিকিত্সাধীন। কোভিডের হামলায় এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ৬১ জন। রোগমুক্ত হয়েছেন ২১৮ জন। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার এমন তথ্যই নবান্নে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। তা ছাড়া গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ জন। সেই সঙ্গে মুখ্যসচিব আরও জানিয়েছেন, গত চব্বিশ ঘন্টায় কোভিড আক্রান্ত মৃত্যু হয়েছে আরও ১১ জনের। এখনও পর্যন্ত কোভিডে রাজ্যে মোট ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অডিট কমিটি আগে জানিয়েছিল যে আরও ৭২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী কো-মর্বিডিটির কারণে মারা গিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, ”কোভিড সংক্রাম্ত তথ্য রিপোর্টিংয়ের যে পদ্ধতি আমাদের ছিল, তা খুব জটিল। ফলে বেশ কিছু তথ্য এবং পরিসংখ্যান নথিভুক্ত হয়নি। আর সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে তথ্যের একটা পার্থক্য।” তিনি এ দিন জানিয়েছেন, সেই সমস্যা দূর করা হয়েছে এবং সামগ্রিক তথ্য সঙ্কলিত করা হয়েছে।
এ দিন মুখ্য সচিব স্বীকার করেন, রাজ্যে টেস্ট ল্যাবের সংখ্যা কম থাকার জন্য প্রথম দিকে নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন ত্রুটিযুক্ত কিটের জন্যও নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। রাজীব সিংহ বলেন, ”১০ দিন আগেও প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় নমুনা পরীক্ষা করা হত ১০৯ জন। সেই নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে বর্তমানে প্রতি ১০ লাখে ২৭৯ হয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ২০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ১১৬টি নমুনা।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে মিজোরাম হাউসের এক বাসিন্দার। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ফলে মিজোরাম হাউসের ২৬ জনকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, জোড়াবাগানের বাসিন্দা এক মহিলারও নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পুলিশের পর শহরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেল এক সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানের। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, ওই বিএসএফ জওয়ান করোনা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আসা কেন্দ্রীয় দলের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।






