সকাল থেকেই আলিপুরদুয়ারে মানুষের ঢল। মঞ্চের সামনে ভিড় জমাতে থাকেন সাধারণ মানুষ থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। কেউ এসেছেন কোচবিহার থেকে, কেউ বা কালচিনি কিংবা হাসিমারা। অনেকেই জানেন না প্রধানমন্ত্রীর আসল বার্তা কী হবে, কিন্তু ‘মোদীজিকে একবার চোখের দেখা দেখতে পারলেই হয়’—এই মানসিকতা নিয়েই জমায়েত। শোনা গেল, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামটাই যেন আবার চেতনায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
ঠিক দুপুর ২টোর সময় সভা শুরুর কথা থাকলেও তিনি আগেভাগেই হাজির হয়ে যান। মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ-মালদহের ঘটনা প্রমাণ করে রাজ্য সরকার কতটা নির্মম। এ রাজ্যে কেন্দ্রের বহু প্রকল্প চালু হতে দেওয়া হয় না।’’ তারপরেই তিনি একে একে তোপ দাগেন আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, এমনকি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও। এরই মধ্যে উঠে আসে সেই চর্চিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় আপনাদের প্রবল রাগ হয়েছিল। সেই রাগই আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে সিঁদুরের শক্তি কী। পাকিস্তান ভাবতেই পারেনি ভারত এমন প্রত্যাঘাত করবে।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। তিন বার ঘরে ঢুকে মেরেছি, আবার হামলা হলে বড় মূল্য দিতে হবে শত্রুদের।’’ এই বক্তব্যেই যেন গর্জে ওঠে সভামঞ্চ। জাতীয়তাবাদের আবেগে ভেসে যায় উপস্থিত জনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই রাজ্যে কেন্দ্রের প্রকল্পগুলিকে চালু হতে দেওয়া হচ্ছে না। আয়ুষ্মান ভারত বন্ধ, আবাস যোজনায় মানুষ বঞ্চিত। তৃণমূল সরকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বাঁচাতে মরিয়া। আদালতের রায়কেও এঁরা মানছে না।’’ সেই সঙ্গেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘তাঁকে রাষ্ট্রপতি করার বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল।’’
আরও পড়ুনঃ DA: বছরের পর বছর প্রাপ্য কি এবার মিলবে? DA নিয়ে সুপ্রিম রায়ের পর জোরদার প্রস্তুতি রাজ্যের!
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সফরের সরকারি অংশ ছিল সিটি গ্যাস বিতরণ প্রকল্পের শিলান্যাস। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০১৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় আড়াই লক্ষ পরিবার উপকৃত হবেন। দেশের মোট ৫৫৫টি জেলা ইতিমধ্যেই এই গ্যাস প্রকল্পের আওতায় এসেছে। লক্ষ লক্ষ পরিবার পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন। এবার আলিপুরদুয়ারও সেই তালিকায় যুক্ত হল।’’






