আত্মনির্ভর ভারতের মূল ভিত্তি ‘রবীন্দ্রনাথ’!  রবীন্দ্র সৃষ্টিকে নিজের ভাষণে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, শতবর্ষের পথ চলা শুরু বিশ্বভারতীর

বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতা দিয়ে শতবর্ষের উদযাপন শুরু বিশ্বভারতীতে। আজ বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবস। ১০০ বছরে পা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাণপ্রিয় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শতবর্ষের উদযাপন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিশ্ব ভারতীর সঙ্গে সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকালেই বিশ্বভারতীতে পৌঁছন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটে শুভেচ্ছাবার্তা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌ও।
তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ছিল মোদীর বক্তৃতা। শুরু করেছিলেন, ‘হে বিধাতা, দাও দাও মোদের গৌরব দাও’ দিয়ে। বললেন, গুরুদেব কখনও ছাত্রদের কথা ভেবে এ কথা বলেছিলেন। আজ সারা দেশ এই কথা বলে আমাদের সঙ্গে”। ভাষণের শুরুতেই বাঙালির মন জিততে কসুর রাখলেন না প্রধানমন্ত্রী।
রবীন্দ্র সৃষ্টিকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে, ৩৫ মিনিটের ভাষণে কমপক্ষে পাঁচবার স্মরণ করলেন।
শেষ করলেন – ‘ওরে গৃহবাসী খোল, দ্বার খোল’ দিয়ে।
উল্লেখ্য, আজকে বিশ্বভারতীর শতবর্ষের ভাষণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে রবীন্দ্রনাথের চেতনায় আবদ্ধ করার চেষ্টা করেন মোদী। বিশ্বভারতীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘গুরুদেব যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়িত করার জায়গা হল বিশ্বভারতী।’
এক‌ই সঙ্গে জানান, তাঁর স্বপ্নের আত্মনির্ভর ভারতের মূল ভিত্তি‌ও হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ!  রাষ্ট্রবাদের যে ভাবনার সূচনা করেছিলেন গুরুদেব, তা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান মোদী। বলেন, ‘গুরুদেব ভারতীয়দের পরম্পরার সঙ্গে বিশ্বভারতী গড়ে তুলেছিলেন, তা দেশের সহায়তা করেছে। বিশ্বভাতৃত্ব, রাষ্ট্রবাদের চিন্তায় মুখর ছিলেন তিনি। বিশ্বভারতীকে গুরুদেব যে স্বরূপ দিয়েছিলেন, তা ভারতের জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে উদাহরণ হয়ে উঠেছে।’
আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিতে চলেছে তা আগে থেকেই আঁচ করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশ্বভারতী পরিভ্রমণ, তারপর‌ই আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশ্বভারতী শতবর্ষ উপলক্ষে ভাষণ, ভোটের বাংলায় যা যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। 
আজকে বাঙালি আবেগকে জিততে কোন‌ওরকম কসুর করেননি প্রধানমন্ত্রী। বাঙালির বিশাল আবেগের জায়গা রবীন্দ্রনাথকে অস্ত্র করে ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’-ও শোনান। সঙ্গে জানান, ‘লোকাল ফর ভোকাল’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে আর্জি জানালেন। অনুপ্রেরণা হিসেবে রবীন্দ্রনাথের গানকে বেছে নেন। বলেন, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তাহলে একলা চলো রে।’ একইসঙ্গে আগামী বছর ভোটের আগে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শহিদ ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, বীণা দাস, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেরের নাম উল্লেখ করেন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথের পরিবার এবং গুজরাতের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগের উপরও জোর দেন মোদী। জানান, গুজরাতে নিজের দুটি কবিতা লিখেছিলেন কবিগুরু। ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর একটি অংশও গুজরাতে থাকাকালীন লিখেছিলেন বলে জানান মোদী। শুধু তাই নয়, ভক্তি আন্দোলনের সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যোগসূত্র খুঁজে বের করেন তিনি। সেই রেশ ধরে চৈতন্যু মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দের নামও নেন
চলুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বভারতী শতবর্ষ উদযাপনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কি কি বললেন-

*আমি ভাগ্যবাণ এই পূণ্যলগ্নে আমিও সামিল হতে পেরেছি। এ এক আরাধ্য স্থল।

* প্রকৃতির সঙ্গে মিশে এক উদার শিক্ষার পাঠ দেয় বিশ্বভারতী। এই প্রতিষ্ঠান দেশকে শক্তি জুগিয়েছে।

*নতুন ভারত নির্মাণের জন্য বিশ্বভারতীর নিত্য নতুন প্রয়াস রয়েছে। আমি খুশি বিশ্বভারতী, শ্রীনিকেতন ও শান্তিনিকেতন অনবরত সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে চলেছেন গুরুদেব যার স্বপ্ন দেখেছেন।

*চৈতন্য মহাপ্রভু থেকে রামদাস, কবীর থেকে তুলসীদাস …গোটা ভারত এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। এই জন্য়ই এই আন্দোলন স্বাভিমান আর সাংস্কৃতিক চেতনার অঙ্গ হয়ে ওঠে।

* ভারতে স্বাধীনতার কথা বলি তখন সোজা আমাদের উনিশ শতকের কথা মনে হয়। কিন্তু এর বীজ অনেক গভীরে। ভক্তি আন্দোলন ভারতকে এক সূত্রে বেঁধেছিল।

*বিবেকানন্দ সেই ভক্তি আন্দোলনের ফসল। ভক্তি আন্দোলনের পাশাপাশি কর্ম আন্দোলনও ভারতের অংশ।

*অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে চিরকালই মাথা তুলেছে মানুষ। সঙ্গে নতুন জ্ঞানের চেতনা স্বাধীনতার বিপ্লবকে সফল করেছিল। সেইসময় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি।

*ভক্তি, শিক্ষা, কর্ম- এই তিন আন্দোলনের ভূমিকা আমাদের জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

*বিশ্বভারতীর শতবর্ষে দেশের একটাই কামনা, গৌরব।

আরও অন্যান্য খবর