৪৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার নির্বাচনী খরচের নেপথ্যে কী রহস্য? তৃণমূলের তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআ*ইনি অর্থের অভি’যোগ ঘিরে শুরু তদ’ন্ত! চাপে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি উৎস থেকে আসা অর্থ জমা থাকার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আবহে এবার এক বিদ্রোহী বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগে সরাসরি কোনও ব্যক্তির নাম না থাকলেও তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণই নয়, ভবিষ্যতে আইনি জটিলতাও তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

ঘটনার সূত্রপাত সাম্প্রতিক এক সাংগঠনিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে। তবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হলেও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নথিতে এখনও আর্থিক লেনদেনের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের নামই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কোনও আর্থিক জটিলতা বা আইনি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের কাছে অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন। এই পদক্ষেপ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের আর্থিক কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এর মধ্যেই নতুন মোড় আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগকে ঘিরে। তিনি বিধাননগর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ক্ষমতা ও পদমর্যাদার অপব্যবহারের মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত না হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ মুছে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ ইতিমধ্যেই এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযোগকারী বিধায়ক একা নন, দলের আরও কয়েকজন অসন্তুষ্ট বিধায়কও একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেন।

আরও পড়ুন: মুক্তির দিনেই বিতর্কের মুখে প্রতীক্ষিত ছবি! ‘অভিমান’ ঘিরে গল্প-চরিত্র চু’রির অভিযোগে, প্রসেনজিতের নামে! এবার মুখ খুললেন টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, কী সাফাই দিলেন তিনি?

যদিও অভিযোগপত্রে অ্যাকাউন্টগুলির মালিকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবু পুরনো সরকারি নথি ঘেঁটে অন্য ছবি সামনে এসেছে। কয়েক বছর আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলির জমা দেওয়া আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লিখিত অ্যাকাউন্ট নম্বরগুলির মধ্যে একটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে নথিভুক্ত। বাকি দু’টি অ্যাকাউন্ট যথাক্রমে দলের ত্রিপুরা ও গোয়া শাখার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। ফলে তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় স্তরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে।

এই বিতর্কের মাঝেই ফের সামনে এসেছে ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ। ওই নির্বাচনে তৃণমূল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে প্রার্থী দিলেও কোনও আসনে জয় পায়নি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী প্রচার ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আইপ্যাক। পরবর্তীতে কয়লা পাচার সংক্রান্ত তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ তোলে যে, গোয়া নির্বাচনের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবাহিত হয়েছিল। সেই মামলায় আইপ্যাকের কয়েকজন শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে তদন্তও হয়। ফলে বর্তমানে গোয়া শাখার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ সামনে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ। তবে আপাতত তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি চাপ তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

আরও অন্যান্য খবর