তাই না কী! শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপির যোগ অনেকদিনের, এই কারণেই কমানো হয় দায়িত্ব, দাবী প্রশান্ত কিশোরের

গত শনিবারই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে নিয়ে এক সর্বভারতীয় চ্যানেলে মুখ খুললেন তৃণমূল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। তাঁর দাবী, মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা ভালো, কিন্তু সকলের নিজের ওজন বুঝে চলা উচিত। তিন এও বলেন যে, শুভেন্দু যে গোপনে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এ আগেই জানত তৃণমূল, এই কারণেই তাঁর দায়িত্ব কমানো হয়।

অনেক জল্পনার পর অবশেষে গত ১৯শে ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারী যোগ দেন বিজেপিতে। এর আগে একাধিবার প্রশান্ত কিশোর তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসলেও কোনও লাভ হয়নি। নিজের জায়গাতে অনড় ছিলেন তিনি। সম্প্রতি, একটি সর্বভারতীয় চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে শুভেন্দুকে নিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “শুভেন্দুর রাজনৈতিক উচ্চতা আছে। উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা ভালো। কিন্তু নিজের ওজন বুঝে চলা উচিত। উচ্চাকাঙ্ক্ষায় চালিত হয়ে কেউ যদি মনে করেন দলের ক্ষতি করে নিজের বৃহত্তর লাভ হবে, তা কিন্তু একেবারেই নয়”।

এদিন সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর আরও বলেন, “উনি নিজেই বলেছেন ২০১৪ সাল থেকেই আমিত শাহ্‌’র সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। এর মানে তো একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠকানো হয়েছে। শুভেন্দু দলের যুব সভাপতি ছিলেন, তাঁকে সেই পদ থেকে সরানো হয় ঠিকই। কিন্তু এটাও যে এরপর তাঁকে আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটা কেন বলা হচ্ছে না?”

এরপর তাঁর দিকে প্রশ্ন আসে যে তাহলে কী তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন না যে শুভেন্দু অমিত শাহ্‌’র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন? এর উত্তরে প্রশান্তের সাফ জবাব যে হ্যাঁ, দল আগেই জানত যে শুভেন্দু অমিত শাহ্‌’স সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। আর এই কারণেই নাকি শুভেন্দুর উপর থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব কমানো হয়েছিল। আর এই সিদ্ধান্ত যে ঠিক ছিল, এও মনে করেন তিনি।

এদিকে, প্রশান্ত কিশোরের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়। তিনি বলেন যে শুভেন্দু লোকসভার সাংসদ ছিলেন, তাই অন্যান্য দলের নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই পারেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীকে দেগে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তো নিয়মিত বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেই কথা বললে ভালো লাগবে না। কবে কোথায় কী কী কারণে মুখ্যমন্ত্রী কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তা তার অন্তত খুব ভালভাবেই জানা, এমন দাবীই করেন মুকুল।

আরও অন্যান্য খবর