মধ্যবিত্তের হেঁশেলে জ্বলছে আগুন। যেভাবে দিনদিন বাজারদর বেড়ে চলেছে, তাতে এবার হয়ত মানুষকে জল খেয়েই কাটাতে হবে। ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে চাষবাসে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। আলুর বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই বাড়তে পারে আলুর দাম। আর পেঁয়াজের দাম তো প্রায় ১০০ ছুঁই ছুঁই। এবার আচমকাই বেড়ে গেল ডিমের দামও।
পুজোর আগে থেকেই সবজির দাম বেড়েছে। এখন চলছে বিয়ের মরশুম। এমন সময় দাম বেড়েছে মাছ-মাংসরও। প্রোটিন বলতে একটু ডিমটাই যা পাতে উঠছিল বাঙালির। কিন্তু এবার ডিমের দাম এমন বেড়ে গেল যে মানুষ আদৌ কী খেয়ে বাঁচবে, তা বুঝেই উঠতে পারছে না।
ডিমের দাম ৬ টাকা হয়ে গেলেই মাথায় হাত পড়ে যায় আমজনতার। সেই জায়গায় এখন প্রতি পিস ডিম বিকোচ্ছে ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকায়। যার জেরে চিন্তার ভাঁজ সকলের কপালে।
কেন এত বেড়ে গেল ডিমের দাম?
রাজ্যে ডিম আমদানি হয় অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা থেকে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের জেরে দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দক্ষিণের রাজ্য থেকে ডিম আমদানিতে ভাটা পড়েছে। শীতকলে আবার ডিমের চাহিদাও থাকে অনেকটা। ফলে চাহিদার অনুযায়ী জোগান মিলছে না বলে খবর। এর জেরেই এক লাফে অনেকটা দাম বেড়ে গিয়েছে ডিমের।
আসলে ডিসেম্বর মানেই তো ক্রিসমাসের সময়। আর এই সময়টা শহরের ছোটো বড় সব বেকারিতেই তৈরি হয় কেক। আর কেক তৈরির অন্যতম উপাদান হল ডিম। ফলে এই সময়টা ডিমের চাহিদা থাকে অনেক বেশি। এমনিতেই এই সময়টা অন্যান্য বছরও ডিমের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এবার যে হারে ডিমের দাম বাড়ছে, তাতে আবার নিরামিষ কেকও না মুখে তুলতে হয় বঙ্গবাসীকে।





