পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নবান্ন অভিযান নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। সাঁতরাগাছি এলাকায় সেই উত্তেজনা আরও প্রকট রূপ নিতে থাকে, যখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের তৈরি লোহার ব্যারিকেড ভেঙে, তাদের দাবি নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্লোগান দিতে শুরু করে।
সকালে থেকে নবান্ন অভিযানের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। দুই স্তরের ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ জনতার প্রবেশ সীমিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু বেলা বারোটা নাগাদ আন্দোলনকারীরা সাঁতরাগাছিতে এসে ব্যারিকেডের সামনে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে তারা উপরে ওঠতে শুরু করে এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’—এই স্লোগান মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পুলিশ বারবার মাইকে শান্ত থাকার আবেদন জানালেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে একদমই নমনীয় নয়। তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে, এক বছর আগে যদি পুলিশ ব্যারিকেড দেওয়ার বদলে সঠিক ব্যবস্থা নিত, তাহলে আরজি করের ঘটনাটি ঘটে না—এমনটাই আন্দোলনকারীদের বক্তব্য।
অভিযানের এই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাঁতরাগাছি এলাকা যেন এক বিক্ষোভমুখর মঞ্চে পরিণত হয়। পুলিশ ও জনতা মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও, পুলিশি ধামাচাপা কার্যকর হয়নি। স্লোগান আর প্রতিবাদের ধারা অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশের প্রচেষ্টা চললেও, আন্দোলনকারীদের আগ্রাসন অব্যাহত থাকে।
আরও পড়ুনঃ Air strike: ৩০০ কিমি দূর থেকে নিশানায় আঘাত! পাকিস্তানি বিমানবাহিনীতে বড়সড় ধাক্কা দিল ভারত!
নবান্ন অভিযানের এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। জনতা এবং প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক বছর আগের আরজি করের ঘটনা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। নবান্ন অভিযানের পরবর্তী ঘটনাবলী কী রকম হবে, তা এখন আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





