আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদের নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার কাণ্ড। হাওড়া, কলেজ স্কোয়ার, সাঁতরাগাছি থেকে বেরিয়েছে মিছিল। এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে নবান্নগামী নানান রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দিয়েছিল পুলিশ। তবে সেই ব্যারিকেড উপেক্ষা করেই এগোতে থাকে মিছিল।
সাঁতরাগাছি ও হাওড়া ব্রিজে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সেই সময় লাঠি হাতে আন্দোলনকারীদের ছুটে যায় পুলিশ। আন্দোলনকারীরা আরও এগোনোর চেষ্টা করতে শুরু হয় জলকামান। এরপর ফাটানো হতে থাকে কাঁদানে গ্যাসের শেল।
অহরহ এই কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো ও জলকামান ছোঁড়ার জেরে আটকে থাকেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু থেমে যান নি তারা। সেই জলকামান ভেদ করেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাদের দাবী, তারা তো শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল করতে চেয়েছিলেন, তাহলে পুলিশ কেন বাধা দিল তাদের।
রণক্ষেত্র হাওড়া, মহাত্মা গান্ধী রোড-সহ একাধিক এলাকা। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানোর সঙ্গে সঙ্গেই লাঠিচার্জ করতে থাকে পুলিশ। এরপরই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া হয়। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের জেরে তুলকালাম পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বেশ কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ।
এই বিক্ষোভের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েও নবান্নের নর্থ গেটের কাছাকাছি চলে যান। এই গেট নবান্ন থেকে ঠিক ১০০ মিটার দূরে। তাদেরকে সেখানেই থামিয়ে দিলে পুলিশের উপর চলে হামলা। তবে বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। বেশ কয়েকজন মহিলা বিক্ষোভকারীদেরও টেনে সরানো হয় বলে দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের পাল্টা ইট আন্দোলনকারীদের, মাথা ফাটল পুলিশের
এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির মাঝেই বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। এদিনের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন কামদুনি কাণ্ডের প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়াল। তাঁকেও এদিন আন্দোলন থেকে টেনে নিয়ে যায় মহিলা পুলিশ। তাঁর কথায়, তিনি নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হতেই এই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। কেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে!





