ওড়িশার পুরী, ভক্তদের কাছে আধ্যাত্মিক শান্তি ও ভক্তির অন্যতম কেন্দ্র। জগন্নাথদেবের এই মহাপীঠ প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত থাকে। কিন্তু এই পবিত্র পরিবেশে হঠাৎই নেমে এল এক অশান্তির ছায়া। এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু পুরী নয়, সারা দেশের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বুধবার সকালে পুরী শহরের একটি মন্দিরের দেওয়ালে বড় বড় করে লেখা একটি বার্তা চোখে পড়ে স্থানীয়দের। বার্তায় দাবি—জঙ্গিরা জগন্নাথ মন্দির ধ্বংস করবে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই হুমকিটি সরাসরি জগন্নাথ মন্দিরের দেওয়ালে নয়, বরং কাছেই অবস্থিত মা বুধি ঠাকুরাণী মন্দিরের গায়ে ওড়িয়া ভাষায় লেখা ছিল।
ওড়িয়ায় লেখা গ্রাফিটিতে শুধু জঙ্গি হামলার হুমকি নয়, বরং একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয় এবং বার্তায় বলা হয়, “আমায় ফোন করুন, নাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে সব।” এমনকি সেখানে ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী’ ও ‘দিল্লি’ শব্দও উল্লেখ ছিল। এই শব্দ ও বার্তার সমন্বয় তদন্তকারীদের কৌতূহল ও সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।

খবর পেয়ে পুরীর পুলিশ সুপার পিনাক মিশ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে এই হুমকি লেখা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা। ইতিমধ্যেই পুলিশ একাধিক টিম গঠন করেছে, যারা হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Kunal Ghosh on RG Kar Case: “চার দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে” — কুণালের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে তিলোত্তমার বাবার প্রতিক্রিয়া কী?
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরীর ভক্তসমাজ ও প্রশাসন সমানভাবে উদ্বিগ্ন। যদিও এখনও পরিষ্কার নয়, এই হুমকি সত্যিই কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের কাজ নাকি কেবলমাত্র আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা, তবে তদন্তকারীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। জগন্নাথ মন্দিরের মতো ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভক্তদের একটাই দাবি—যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের গ্রেফতার করে মন্দিরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হোক।






