ফের প্রত্যাবর্তনের হিড়িক ঘাসফুল শিবিরে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঝাঁকে ঝাঁকে নেতা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এদের মধ্যে ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে ভোটের ফলাফলের পর থেকেই তিনি বেসুরো। অনেকদিন ধরেই তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে চলছে জল্পনা। আজ, রবিবার ত্রিপুরার আগরতলায় রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। এই সভাতেই তৃণমূলে ফিরতে পারেন রাজীব, এমনটাই সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
একুশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ক্রমে বেসুরো হতে থাকেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কোনও দলীয় বৈঠকেই দেখা যায়নি তাঁকে। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয় তাঁকে নিয়ে। তিনিও হয়ত তৃণমূলে ফিরবেন, এমন কথা হতে থাকে চারদিকে। আর তাঁর নানান ফেসবুক পোস্টও সেরকমই ইঙ্গিত দেয়।
এক পোস্টে রাজীব লেখেন, “সমালোচনা তো অনেক হল….মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই তিনি লিখেছিলেন, “আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ইয়াস-এর মতো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা”। এরপর থেকেই রাজীবের মতিগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তিনি কী তবে বিজেপিতে গিয়ে ভালো নেই? এমন প্রশ্নও ওঠে।
একুশের নির্বাচনের পর মুকুল রায় ফেরেন তৃণমূলে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বাড়িতে উপস্থিত হন রাজীব। কুণালের বাড়িতে চলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়াই গিয়েছিলেন রাজীব। তাদের এই গোপন বৈঠকের পর রাজীবের তৃণমূলর প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা আরও গভীর হয়।
কুণালের বাড়ি থেকে যে গাড়ি করে রাজীব ফিরেছিলেন, তার সামনে ছিল তৃণমূলের উত্তরীয় রাখা। দলবদলের তীব্র জল্পনা উস্কে দিয়ে
গত আগস্টে রাজীব সাক্ষাৎ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। অভিষেক-রাজীবের এই সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। একাধিক সময় নানা অছিলায় কখনও কুণাল ঘোষ, কখনও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, তা আসলে নৈকট্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। তবে শেষমেশ জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছে।
রাজীব যেদিন তৃণমূল ছাড়েন, সেদিন তাঁর হাতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, তাঁর চোখে ছিল জল। অনেকেই সেই সময় বলেছিলেন যে রাজীব নাকি দুটো পথই খোলা রাখতে চাইছেন। মার নির্বাচনের পরবর্তীতে সেই অনুমানই বাস্তবায়িত হল।






