বসন্তের মাঝামাঝি সময়েই গরমের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। সকালবেলা একটু ঠান্ডার আমেজ থাকলেও দুপুর গড়াতেই রোদের তেজ এবং আর্দ্রতার অস্বস্তিতে নাজেহাল অবস্থা। ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে রয়েছে, এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গেও তাপমাত্রার বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে মালদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই ঘূর্ণাবর্তের ফলে দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশেও ঘূর্ণাবর্তের সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে, যা থেকে একটি অক্ষরেখা মধ্য মহারাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও বাংলায় এই ঘূর্ণাবর্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে না, তবে মৌসুমী পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আপাতত শুষ্কই থাকবে, তবে আর্দ্রতা বাড়তে পারে, যার ফলে গরম আরও অনুভূত হবে।
কলকাতার তাপমাত্রা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে বেশি। রাতের তাপমাত্রাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৩৭ থেকে ৮৯ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে, ফলে দুপুরের দিকে অস্বস্তি আরও বাড়ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৪ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে এবং এই সময়ে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
উত্তরবঙ্গে আজ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে। পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা থাকলেও, সার্বিকভাবে আবহাওয়া শুকনোই থাকবে। তাপমাত্রার বড়সড় পরিবর্তন হবে না, তবে বসন্তের মধ্যেই উষ্ণতার প্রভাব টের পাচ্ছেন স্থানীয়রা। ভোর এবং রাতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিনের বেলায় গরমের দাপট বাড়বে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আরও পড়ুনঃ বৃহস্পতি বদলে দেবে আপনার ভাগ্য! ২০২৫-এ কোন রাশির জীবন বদলাবে?
এদিকে, দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। লাক্ষাদ্বীপ এবং সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে গরমের মধ্যেও আবহাওয়ার আচরণ নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।






