কোনও মানুষ যখন জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন, তখন তাঁর চারপাশের মানুষদের উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতি অনেক সময় অনেক কিছু বলে দেয়। নেতা হোন কিংবা সাধারণ মানুষ— নতুন জীবনের শুরুতে পাশে থাকা প্রিয়জনের মুখ খুঁজে ফেরেন সকলেই। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত জীবনের কাছে বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই মুহূর্তেই যদি এক চেনা মুখের দেখা না মেলে, তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই— কেন? সম্পর্ক কি আগের মতো আর নেই?
বছরের পর বছর একসঙ্গে লড়াই করে আসা দুই নেতা হঠাৎ যেন দুটি আলাদা রেখায় হাঁটছেন। যতই রাজনীতি বলুন ‘অপব্যাখ্যা’র জায়গা, কিছু অনুপস্থিতি নিছক কাকতালীয় মনে হয় না। সম্প্রতি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ যখন জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন দলের বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু যাঁর উপস্থিতির দিকে সকলেই তাকিয়ে ছিলেন, সেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন না! দু’জনের সম্পর্ক ঘিরে জল্পনা বরাবরই ছিল, তবে এই না-থাকা যেন সেই আলোচনাকে আরও খানিকটা জ্বালানি দিল।
দিলীপ ঘোষের বিয়ের দিন সকাল থেকেই নিউটাউনের তাঁর ফ্ল্যাটে একে একে হাজির হতে থাকেন বিজেপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায়, শমীক ভট্টাচার্যর মতো নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত থেকে নতুন দম্পতিকে আশীর্বাদ জানান। ছিলেন মহিলা মোর্চার নেত্রী রিঙ্কু মজুমদার, যিনি দিলীপবাবুর জীবনের নতুন সঙ্গী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকেও আসে শুভেচ্ছা ও উপহার। এমনকি বিরোধী দলের নেতা কীর্তি আজাদ পর্যন্ত তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে মিষ্টি বিলি করে শুভেচ্ছা জানান। চারদিক যেন এক মিলনমেলার আবহ— তবু তাতে কোথাও যেন একটা শূন্যতা চোখে পড়ল!
প্রশ্নটা উঠল খুব স্বাভাবিকভাবেই— তাহলে শুভেন্দু অধিকারী কোথায়? এত বড় একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতি নিছকই কি ব্যস্ততার কারণ? এই প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু বেশ সংক্ষেপে বলেন, “এটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিছু বলতে চাই না।” সাংবাদিকরা যখন আরও জানতে চান, তিনি বলেন, “পার্টির তরফ থেকে তো শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, আমিও তো সেই দলের একজন।” তার পর তিনি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নিয়ে যান মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতিতে। রাজনীতিতে ভাষার থেকেও কখনও কখনও ‘নীরবতা’ অনেক বেশি অর্থবহ হয়। এই না-থাকার মধ্যেই যেন অনেক কথা বলে গেল শুভেন্দুর জবাব।
আরও পড়ুনঃ Ssc scam : চাকরি কেড়ে নেওয়া হলেও হার মানেননি! যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ক্লাসেই ঢুকে পড়লেন ‘অযোগ্য’ শিক্ষকরা !
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে একাধিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন দিলীপ ঘোষ। এবার শুরু করলেন একেবারে ভিন্ন এক যাত্রা— সংসার। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই দলের অন্দরের একটি সম্পর্ক ঘিরে তৈরি হল জল্পনা। শুভেন্দুর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও, অনেকেই বলছেন— সব ঠিক আছে, এমনটা বোধহয় বলা যাচ্ছে না। নতুন জীবনের শুরুতে দিলীপ ঘোষকে যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেকে, তেমনই এক চেনা সম্পর্কের ঠান্ডা ছায়াও যেন ঘনিয়ে এল আবহে। রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিজীবনে পা রাখলেও, সেই রাজনীতির মঞ্চ থেকে এক পুরনো সঙ্গীর না-থাকা যেন অনেক কিছু বলে দিয়ে গেল।





