নবান্ন অভিযানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর থেকে তিলোত্তমার পরিবারের মধ্যে দম বন্ধ থাকা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কারণ, তিলোত্তমার মা মাথায় আঘাত পেয়েছেন, কিন্তু সেই আঘাত কেমন এবং কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ইনজুরি রিপোর্টে স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে আঘাতের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যার ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রথাগতভাবে হাসপাতালে আসা রোগীর কাছে ডাক্তাররা জানতে চান আঘাত কিভাবে লেগেছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে ইনজুরি রিপোর্ট তৈরি হয়। কিন্তু তিলোত্তমার মায়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম পুরোপুরি পালন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তিলোত্তমার বাবা জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা যে রিপোর্ট পেয়েছিলেন সেখানে আঘাতের সঠিক বর্ণনা ছিল না। হাসপাতাল থেকে যে রিপোর্ট তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে, সেটায় তিলোত্তমার মায়ের আঘাতের ধরন ও ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমভাবে লেখা রয়েছে।
তিলোত্তমার বাবার দাবি, পুলিশি হামলায় তিলোত্তমার মা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ডিসচার্জ রিপোর্টে পুলিশি আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। শুধু ‘হেড ইনজুরি’ কথাটাই ছিল, কিন্তু আঘাত কিভাবে লাগল তা পরিষ্কার করা হয়নি। এই বিষয় নিয়ে তিলোত্তমার পরিবারের পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানানো হয়েছে। তাঁরা বলছেন, “প্রাথমিক রিপোর্টে যা ছিল, সেটার সঙ্গে এখনকার রিপোর্ট মিলছে না। আগে যা লেখা ছিল, সই নিয়েছিলাম, এখন যে রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, সেটায় সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।”
তিলোত্তমার বাবা আরও জানিয়েছেন, “আমরা একটা এফআইআর করার কথা ভাবছি, যাতে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উন্মোচিত হয়। হাসপাতালে আঘাতের কারণ গোপন করে রিপোর্ট পরিবর্তন করা হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া যাবে না।” এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিলোত্তমার পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Rajnath-Modi attacks Trump: “ভারতের দ্রুতগতির উত্থান কেউ সহ্য করতে পারছে না” — ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ!
পুলিশি দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সিপি মনোজ ভর্মা জানিয়েছেন, “তিলোত্তমার মায়ের আঘাতের কারণ কী তা নিয়ে তদন্ত চলছে।” দ্রুত এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য উদঘাটন করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, কীভাবে এই ঘটনার আড়ালে থাকা সত্য বেরিয়ে আসে এবং তিলোত্তমার পরিবারের অভিযোগের সঠিক তদন্ত হয় কি না।






