গ্লাভস পরে রোগীর চিকিৎসায় অংশ নিলেন তৃণমূল প্রার্থী! রঘুনাথপুরের ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে, প্রচারের নামে কি ভাঙা হল হাসপাতালের নিয়ম?

ভোটের মরশুম মানেই শুধু সভা-মিছিল নয়, সঙ্গে থাকে নানা চমকও। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে প্রার্থীরা অনেক সময়ই বেছে নেন ভিন্ন পথ। কখনও মাঠে নেমে চাষের কাজ, কখনও দোকানে দাঁড়িয়ে কাজ সবই যেন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার চেষ্টা। তবে এই সব কিছুর মাঝেই কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে শুরু হয় জোর বিতর্কও।

সম্প্রতি রঘুনাথপুরে এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি, যিনি পেশায় একজন শিক্ষক, তাঁকে দেখা যায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়তে। সেখানে এক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছিল। অভিযোগ, তিনি সার্জিক্যাল গ্লাভস পরে চিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসার কাজে হাত লাগান। এই ঘটনাই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

এই ঘটনার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত এক চিকিৎসক-সহ মোট ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কারণ, অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল জায়গায় একজন অ-চিকিৎসক কীভাবে প্রবেশ করলেন এবং চিকিৎসার কাজে অংশ নিলেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নিয়মনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নানা অভিনব ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। কখনও কেউ চপ ভেজেছেন, কেউ আবার সেলুনে গিয়ে দাড়ি কেটেছেন। কেউ রান্নাঘরে ঢুকে মশলা বেটেছেন, আবার কেউ মাঠে নেমে লাঙল টেনেছেন। এই সবই মূলত মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হয়।

তবে রঘুনাথপুরের এই ঘটনা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। কারণ, এখানে শুধু প্রচারের অভিনবত্ব নয়, জড়িয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন জনসংযোগের নামে কি সবকিছুই করা যায়? নাকি কিছু জায়গায় কঠোর সীমা থাকা প্রয়োজন? এই ঘটনার পর সেই বিতর্কই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই ইস্যুতে পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এর প্রভাব কতটা পড়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে।

আরও অন্যান্য খবর