তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একটি খবর নিয়ে জোর চর্চা চলছিল। দাবি করা হচ্ছিল, কলকাতা পুরসভার একটি নোটিশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে এবং সেই সম্পত্তিগুলির মধ্যে কিছু অংশ বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ভাঙার মুখে। এমনকি এই তালিকায় তৃণমূলের আরও কিছু নেতার নামও জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি মুখ খুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় বিবৃতিতে গোটা বিষয়টিকেই ‘মিথ্যা’, ‘বানানো’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে শাসকদল।
তৃণমূলের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিজেপির তরফে ‘আন-অফিশিয়ালি’ ছড়ানো একটি কেএমসি নোটিশকে কেন্দ্র করেই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। দলের অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম যাচাই না করেই সেই তথ্য প্রচার করেছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একাধিক সম্পত্তির যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। তৃণমূলের বক্তব্য, ন্যূনতম সাংবাদিকতার নীতিবোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলির উচিত ছিল সরাসরি ওই ঠিকানাগুলিতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া অথবা নোটিশে দেওয়া নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা। তার বদলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো তথ্যকেই খবর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ঘাসফুল শিবির।
মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বাড়িকে ঘিরে। খবর ছড়ায়, ওই বাড়ির কিছু অংশ নাকি অবৈধ নির্মাণের আওতায় পড়ছে এবং তা ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাও রয়েছে। এরপরই কলকাতা পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট কালেকশন ডিপার্টমেন্টের একটি নোটিশ ঘিরে আরও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সেখানে দাবি করা হয়, মোট ১৭টি জায়গায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। কোথাও তিনি একক মালিক, কোথাও যৌথ মালিক হিসেবেও নাম রয়েছে বলে খবর ছড়ায়। এমনকি একটি সম্পত্তির সঙ্গে অভিনেত্রী ও তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের নামও জড়িয়ে পড়ে। এই সমস্ত দাবিকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক আক্রমণের জন্যই এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রী। সাংসদ সাখেত গোখলে এবং সুস্মিতা দেব প্রকাশ্যে এই খবরের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছে তৃণমূল। দলের বক্তব্য, যাচাই না করে এই ধরনের খবর প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছয়। তাই দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিরোধী দল ও শাসকদলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়াতেই এই ধরনের ইস্যু সামনে আসছে।
আরও পড়ুনঃ তড়িঘড়ি হাসপাতাল ভর্তি অমিতাভ বচ্চন? ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ, আচমকা কী ঘটেছে বলিউডের শাহেনশাহর সঙ্গে?
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। দল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি কোনও সংবাদমাধ্যম বা ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য ছড়ান বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হতেও পিছপা হবে না দল। সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সম্পত্তি বিতর্ক এখন রাজ্যের রাজনীতিতে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, গোটা ঘটনাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং বিরোধীদের তৈরি করা ‘ন্যারেটিভ’। এখন দেখার, এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসনিক স্তরে আদৌ কোনও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না।






