এতদিন প্রকাশ্যে চলত হিংসাত্মক কার্যকলাপ। এবার শাসক দলের সদস্যরা পারিবারিক হিংসা ঘটিয়ে তা গর্ব সহকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে শুরু করেছে! সম্প্রতি জগৎবল্লভপুর এর তৃণমূল নেতা মইনুল ইসলাম মোল্লা ওরফে গামা পালোয়ান নিজের স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করে সেই ভিডিও ফেসবুকে গর্ব সহকারে পোস্ট করেছেন!
আবার ক্যাপশনে লিখেছেন, “আমি আমার স্ত্রী-মেয়েকে মারছি। কেমন লাগছে বন্ধুরা?”
স্বাভাবিকভাবেই ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে গামা পালোয়ান এর বিরুদ্ধে।
জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম মোল্লা নামে ওই তৃণমূল নেতা সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায় তিনি এক মহিলাকে চড় কিল মারছেন নৃশংস ভাবে। উল্টোদিক থেকে এক মহিলা কন্ঠ ভেসে আসছে যেখানে শোনা যাচ্ছে, “আমাদের মারলে তোমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করব।”
মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় তবে কিছুক্ষণ পরেই সে ভিডিওটি ওই অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তৃণমূল নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গোটা ঘটনাটি অস্বীকার করেন এবং জানান যে কেউ তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই কাজ ঘটিয়েছে। তাকে ব্ল্যাকমেইল করতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি ওই তৃণমূল নেতার।
তাহলে এবার কি তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করবেন এই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল নেতা চুপ হয়ে যান। এখানেই ঘনিয়ে ওঠে সন্দেহ। জগৎবল্লভপুর থানা থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে প্রহারের ছবি গর্ব সহকারে শেয়ার করতে দেখা গিয়েছে ওই নেতাকে তাতে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে একথা মানতে রাজি নন কেউই এবং এই ঘৃণ্য ঘটনায় শাসকদল রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে।





