বর্তমানে রাজ্য ও রাজনীতি উত্তাল পার্থ চট্টোপাধ্যায় ([Partha Chatterjee) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে (Arpita Mukherjee) নিয়ে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে ইডি (ED)। অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে মোট ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। অর্পিতার দাবী, সেই টাকা পার্থর। এই নিয়ে এখন বিতর্ক তুঙ্গে।
মন্ত্রিত্ব ও তৃণমূলের সমস্ত পদ খুইয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আগেই বলে দিয়েছিলেন, “দোষ করলে শাস্তি পাবেন। কেন আগে বলেননি তিনি নির্দোষ”। আবার ফিরহাদ বলেছেন, “এই পার্থদাকে চিনি না”। সৌগত রায়ও বলেছেন, “দোষ করলে শাস্তি পেতেই হবে”। আর এবার এরই মধ্যে পার্থর ক্ষততে যেন নুন দিলেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের তৃণমূলে বিধায়ক খগেশ্বর রায়।
আসলে জলপাইগুড়ি রাজগঞ্জের যুব তৃণমূলের উদ্যোগে একটি সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এর প্রস্তুতি নিয়েই গতকাল, রবিবার সন্ধ্যায় আমবাড়ি চিন্তামোহন স্কুলে একটি বৈঠক ছিল। আগামী ৩রা ও ৪ঠা অগস্ট ফুটবল ম্যাচের জন্য মোট ২ লক্ষ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। দলীয় কর্মীরা আবদার করে বসেন যে এই টাকার সিংহভাগটাই দিতে হবে বিধায়ক খগেশ্বরবাবুকে।
আর কর্মীদের এমন আবদার শুনেই কার্যত ক্ষেপে যান খগেশ্বর রায়। সকলের সামনেই ভরা সভায় মুখ ফসকে বলেই দেন, “এত টাকা আমি কোথায় পাব? আমি কি পার্থ চট্টোপাধ্যায়”?
বিধায়কের এমন মন্তব্যের পর পরিস্থিতিটা ছিল দেখার মতো। সকলে কার্যত হতবাক হয়ে যান আর এদিকে বেফাঁস মন্তব্য করেই বিধায়ক চুপ। স্তব্ধ পারিষদরাও। পিন পড়লেও শোনা যাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। খানিকক্ষণের ছেদ দিয়ে আবার বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকের শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে আগামী ৪ঠা আগস্ট ১ দিনের জন্য টুর্নামেন্ট হবে। কারণ অত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই বাজেটে কাটছাঁট করতে হবে। তবে খগেশ্বর রায়ের এমন বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে যে জলপাইগুড়ির রাজনীতির অন্দরে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।






