কি যে করেন!  তৃণমূলের পার্টি অফিস কন্ট্রাক্টরকে ভাড়ায় দিয়ে দিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, অস্বস্তিতে নেতৃত্ব

দিদি যাই বলুন, হুমকি দিন, হুঁশিয়ারি দিন বা ভালো কথায় বোঝান কিছুতেই কথা শোনে না ভাইয়েরা। দলে থেকে দলকে অপদস্থ করতে তারা বিরামহীন। কখন‌ও কাটমানি, কখন‌ও পার্টি অফিস বিক্রি করে দেওয়া, বা কখন‌ও ভাড়ায় দিয়ে দেওয়া ভোট-পূর্ববর্তী বাংলায় বিতর্ক যেন‌ও পিছু ছাড়ছে না শাসক শিবিরের।
এবার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের পার্টি অফিস এক কন্ট্রাক্টরকে ভাড়ায় দিয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। আর এই অভিযোগেই এখন সরব দলের একাংশ।
এই বিস্ময়কর ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের পঁচেটের। যদিও যথারীতি এই অভিযোগ মানতে নারাজ অভিযুক্ত সভাপতি।
তবে, পঁচেটের তৃণমূল (TMC) নেতাদের একাংশ জানাচ্ছে, দলকে না জানিয়েই পার্টি অফিস ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ব্যবস্থা করেছেন দলেরই নেতা তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ভোটের আগে দলীয় কার্যালয় ভাড়া দেওয়ায় সাংগঠনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ তাঁদের। মিটিং-গোপন বৈঠক কিছুই করতে পারছেন না জানিয়েছেন পঁচেটের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি নীলমাধব দাস অধিকারী।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই পটাশপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি অর্থাৎ অভিযুক্ত চন্দন সাউয়ের কথায়, তিনি ভাড়া দেননি কার্যালয়। যাতে রাস্তার কাজ তাড়াতাড়ি হয়, সেজন্য কন্ডাক্টরের জিনিসপত্র ও লোকজন থাকার জন্য বিনামূল্যে অফিসটি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পার্টি অফিসের সামনে ফাঁকা জায়গা রয়েছে। তাই কাজের জিনিসপত্র রাখতে সুবিধা হবে। এর জন্য কোনও মিটিং, মিছিল আটকে নেই বলেই দাবি তাঁর।
তবে এই ঘটনায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না প্রধান বিরোধী বিজেপিও। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “এখন তো আমফান-কাটমানি এসবের টাকা মারা বন্ধ। ইনকাম বন্ধ। পারলে তো ওঁরা কালীঘাটের টালির চালও ভাড়া দেয়।”

RELATED Articles