এবার তিহাড়ে যাচ্ছেন তৃণমূল দুই সাংসদ, লক্ষ্য ‘বীরভূমের বাঘ’ অনুব্রতর সঙ্গে সাক্ষাৎ, দেখা করতে পারেন সুকন্যার সঙ্গেও

ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তিহাড় জেলে প্রায় দু’মাস কেটে গিয়েছে ‘বীরভূমের বাঘ’-এর। এবার গরু পাচার কাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিহাড় জেলে যাচ্ছেন তৃণমূল দুই সাংসদ দোলা সেন ও অসিত মাল। আজ, শুক্রবার তারা দেখা করবেন কেষ্টর সঙ্গে। এর সাক্ষাৎ যে অনুব্রতকে নিয়ে ইডি-র প্রভাবশালী তত্ত্বকে আরও বেশি জোরালো করবে।, তা বলাই বাহুল্য।  

ইডির হাতে গ্রেফতার ও আসানসোলের জেল থেকে ঠিকানা বদলে দিল্লির তিহাড় জেলে ঠাঁই হওয়ার পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কথা বারবার বলেছেন অনুব্রত মণ্ডল। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একাধিকবার আদালতে জামিনের আবেদনও করেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। গত মার্চ মাস থেকে জেলেই বন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলকে। এবার বীরভূমের জেলা সভাপতিকে দেখতেই তিহাড়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের দুই সাংসদ।

ইডির হাতে গ্রেফতার হয়ে তিহাড় জেলে রয়েছেন অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলও। তাঁর সঙ্গেও দেখা করতে পারে তৃণমূল প্রতিনিধিরা। ইতিমধ্যে অনুব্রত তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।

গরু পাচার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি একাধিকবার আদালতে দাবী করেছে, অনুব্রত মণ্ডল গত সাত-আট বছরে নামে-বেনামে বিপুল টাকার সম্পত্তি করেছেন। সেই সম্পত্তির কোনওটা তাঁর নামে, তো কোনওটা আবার প্রয়াত স্ত্রী ছবি মণ্ডলের নামে, কোনওটা আবার রয়েছে তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের নামে। গত ২৪ মে এই সমস্ত সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর আগে সিবিআই অনুব্রত মণ্ডলের ১৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তবে অনুব্রতর সঙ্গে এই তৃণমূল সাংসদদের সাংসদ ইডির কাছে এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কারণ অনুব্রতকে গ্রেফতারির পর থেকেই অনুব্রতকে নিয়ে প্রভাবশালী তত্ত্ব তুলে ধরেছেন ইডি আধিকারিকরা। সেই কারণে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজেরও আর্জি জানিয়েছে। আর এবার তৃণমূল সাংসদরা অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া সেই প্রভাবশালী তত্ত্বের পালে হাওয়া দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের এই সাক্ষাৎ যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বছর জুলাই মাসে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপরই তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল। তবে অনুব্রতর গ্রেফতারির পর ঠিক উল্টো চিত্রই দেখা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম বারবার কেষ্টর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। আর এবার তৃণমূল সাংসদরা যাচ্ছেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে।

আরও অন্যান্য খবর