রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাভাবিক ভিড়। কেউ হাতে ফাইল, কেউ মোবাইলে ফর্মের স্ক্রিনশট, কারও চোখে স্পষ্ট উদ্বেগ। লাইনে দাঁড়ানো মুখগুলো একেকটা আলাদা গল্প বলছে—ডিগ্রি আছে, স্বপ্ন আছে, কিন্তু স্থায়ী কাজ নেই। ভাতা মিলবে, এই আশায় তাঁরা এসেছেন। তবে কথায়-কথায় স্পষ্ট হচ্ছে, ভাতার চেয়ে বড় চাহিদা অন্য কিছু।
১ এপ্রিল থেকে চালু হতে চলেছে ‘যুবসাথী প্রকল্প’ (Yuva Sathi Scheme)। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। সেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে টানা এগারো দিনের ক্যাম্প বসেছে জেলা-জেলায়। কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় একই ছবি—দীর্ঘ লাইন, ফর্ম পূরণের ব্যস্ততা, আর প্রত্যাশা মেশানো দীর্ঘশ্বাস।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক বললেন, “আমি রোজ দুই লিটার পেট্রল ভরি বাইকে। কিছু তো সাহায্য হবে।” পাশেই স্নাতক স্তরের এক পড়ুয়া জানালেন, “১৫০০ টাকায় কিছুই হয় না। চাকরি দরকার।” ইতিহাসে এমএ করা এক যুবকের কথায় হতাশার সুর, “ভাতা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। কিন্তু বাধ্য হয়েই আবেদন করছি।” অনেকের বক্তব্যই এক—ভাতা সাময়িক, স্থায়ী কাজই আসল চাওয়া।
মালদহে (Malda) বারোটি বিধানসভা এলাকায় ব্লকভিত্তিক ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো। বিএ, বিকম, বিএসসি এমনকি এমএ পড়ুয়ারাও আবেদন করতে এসেছেন। অন্যদিকে শিলিগুড়িতেও (Siliguri) একই ছবি। সাক্ষী নামে এক তরুণী বললেন, “চাকরি আছে, কিন্তু পাচ্ছি না। তাই আপাতত ভাতা।” অনেকেই বলছেন, এই টাকায় বড় কিছু হবে না, তবে অন্তত কিছু খরচ সামলানো যাবে।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : ব্রিগেড সমাবেশে মোদি-শাহদের নেতৃত্বে বড় জনসভা, চূড়ান্তের পথে প্রার্থী তালিকাও !
যুবসাথী প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বেকার যুবসমাজের এক বাস্তব ছবি সামনে এসেছে। ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের অভাব তাঁদের বাধ্য করছে ভাতার লাইনে দাঁড়াতে। কেউ কেউ বলছেন, “এই টাকা যদি বেতনের আকারে মিলত, তাতেই কাজ করতাম।” আপাতত ১৫০০ টাকার আশায় আবেদন চলছে, কিন্তু লাইনের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—ভাতা নয়, স্থায়ী চাকরি কবে?






