ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন বাড়ছে উত্তেজনা। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশেও এখন রাজনীতির রং আরও গাঢ়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাঝেই ঢুকে পড়ছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাকচা এলাকা বরাবরই স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত, আর এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। শনিবার সকালের একটি ঘটনা ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়, আর তার জেরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি নিয়ে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকালে, যখন তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডল অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করছিলেন। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, আচমকা কয়েকজন যুবক বাঁশ ও লাঠি নিয়ে মিছিলের ওপর চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। দৌড়াদৌড়ি, চিৎকার, সব মিলিয়ে এলাকা যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই হামলায় খোদ প্রার্থী চন্দন মণ্ডলও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা একাধিক কর্মীকেও মারধর করা হয়। খবর অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর জখম হন, তাঁদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষও ভয়ে সরে যেতে শুরু করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। প্রার্থী চন্দন মণ্ডলের দাবি, নিশ্চিত হার বুঝতে পেরে বিরোধীরা এই ধরনের আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, এটি আসলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। উল্লেখ্য, চন্দন মণ্ডল আগে বিজেপিতে ছিলেন, পরে দল বদলে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই কারণেই দলের ভিতরে ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের।
আরও পড়ুনঃ ৪০ দুষ্কৃ*তীর তাণ্ডব বাঁকুড়ায়! লাঠি-হকি স্টিকে নৃ*শংস মারধর,এর নেপথ্যে কি শাসকদলের হাত? নাকি অন্য কোনও গোপন সমীকরণ? প্রশ্নে সরগরম রাজনীতি!
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। আশ্চর্যের বিষয়, দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে এটি কি বিরোধীদের হামলা, নাকি শাসকদলের অন্দরেই কোনও দ্বন্দ্ব? এই ধোঁয়াশা কাটাতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের আগে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ উভয়ই।





