বাংলায় আর মাত্র পাঁচ ছ’মাস আছে বিধানসভা নির্বাচনের। এরই মাঝে শক্তি ঝালিয়ে নিতে হবে শাসক-বিরোধী সব শিবিরকেই। তবে ভোটের ঠিক আগে আগে তৃণমূলী রাজনীতিতে বেশ কিছুটা জট পেকেছে।
রাজ্যের শাসক হিসেবে তৃণমূলের সঙ্গে পূর্ব সদ্ভাব আর নেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তবে ঝাঁঝ কম নেই বাকি তৃণমূল নেতাদের। গতকাল আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয় বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের কনভয়ের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি শাসক শিবিরের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে প্রধান বিরোধী শিবির বিজেপি। আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ নিজেই জানিয়েছেন যে তাঁর ওপরে হামলা চালিয়েছে রাজ্যের শাসকদল ও অন্য কিছু সমাজবিরোধী দল।
একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, হামলাকারীদের সঙ্গ দিয়েছে পুলিশও। দিলীপ ঘোষের উপর হামলার প্রতিবাদ করায় ৪০ বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতারও করে পুলিশ। তবে যথারীতি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানিয়েছেন তৃণমূল গান্ধীবাদে বিশ্বাস করে। তাঁর সাফ কথা, ‘তৃণমূল কংগ্রেস এই রাজনীতি করে না। এই গাড়ির ওপর হামলা, মাথা ফাটানো, খুন করা— এই রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা গান্ধীবাদে বিশ্বাস করি। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সব সময় মানুষকে নিয়ে চলার কথা বলেন। আমাদের দলে এই রাজনীতি হয় না। আইন আইনের পথে চলবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে শুধু ফিরহাদ হাকিম নন, দিলীপ ঘোষকে বাক্-আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সবচেয়ে বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মণ্ডল-ও (Anubrata Mondal)। এদিন দিলীপ ঘোষকে ‘পাগল’, ‘ছাগল’ বলে কটাক্ষ করেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘পাগল লোক, ছাগল লোক— কখন কী বলে জানে না।’ তাঁর মতে, দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) যদি তাঁর ভাষাজ্ঞান ঠিক না করে তবে তাঁর একই অবস্থাই হবে। অনুব্রতর কথায়, ‘ভাষাজ্ঞান ঠিক না করলে ওর এই অবস্থাই হবে। সব সময় মানুষকে আজেবাজে ভাষা বললে মানুষ কি মেনে নেবে? মানুষ মেনে নেবে না।’
অনুব্রত এর সাথেই বিজেপি–র রাজ্য সভাপতিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘সে কে রয়েছে, কী রয়েছে— ও সব পরে হবে। ও আগে নিজের ভাষা ঠিক করুক। আজ মানুষ ওর গাড়ি ভাঙছে, কাল ছাগল, কুকুর, বিড়ালে করবে।’






