উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সেই খুনে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর প্রেমিক, বোন এবং বোনের প্রেমিকের বিরুদ্ধেও। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পনা করেই স্বামীকে মারধর, বিদ্যুতের শক এবং বিষ খাইয়ে খুন করা হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোরও চেষ্টা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের নাম পবন। উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের মাজহোলা থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে আঁচল নামে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আঁচলের সঙ্গে তাঁর ভাসুরপো অঙ্কিতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আপত্তি জানান পবন। তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেই সম্পর্কের জেরেই পবনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, আঁচল তাঁর প্রেমিক অঙ্কিত, নিজের বোন শিখা এবং শিখার প্রেমিক অজয় দিবাকরের সঙ্গে মিলে খুনের ছক কষেন। গত ২২ মে পরিকল্পনা অনুযায়ী চার অভিযুক্ত পবনের বাড়িতে জড়ো হন। প্রথমে পবনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাঁকে বেঁধে রেখে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর আগে তাঁকে জোর করে বিষও খাওয়ানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অত্যাচারের সময় পবনের চিৎকার বাইরে যাতে না শোনা যায়, তার জন্য বাড়িতে জোরে গান চালানো হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, এতেই শেষ হয়নি নৃশংসতা। খুনের পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর জন্য পবনের দেহ সিঁড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। তারপর পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের জানানো হয় যে, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন পবন। তবে ঘটনার পর থেকেই আঁচলের আচরণে সন্দেহ হয় পবনের পরিবারের সদস্যদের। মৃতের দাদা দেবেন্দ্র থানায় গিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে মাজহোলা থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার পর এবার নজরে উত্তর শহরতলির পুরসভাগুলি, মেয়র-কাউন্সিলরদের ডেকে জনসংযোগ ও পরিষেবা নিয়ে কড়া বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে অভিযুক্তেরা তাঁদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। চার জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন যে এত ভয়ঙ্কর পরিণতি নিতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






