তৃণমূলকে সমর্থন না করার ‘শাস্তি’! সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত গরীব মানুষগুলো, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন গ্রামবাসীরা

তাঁর এলাকায় বিরোধী দলের সমর্থক বলেই পরিচিত। কিন্তু পঞ্চায়েত তো আবার তৃণমূলের হাতে। গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ। বিরোধী দলকে সমর্থন করায় নাকি তারা সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমনটাই অভিযোগ তাদের। এহেন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়।

কোথায় ঘটেছে ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার বাদুড়িয়া বিধানসভা এলাকার নয়াবস্তিয়া মিলনী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানেই ইছামতী নদীর পাড়ে কারিগরপাড়া এলাকায় বাস মাজেদা বিবি, তাহরিমা বিবি, আব্দুল মাজেদ, এবাদুল্লাহ মণ্ডলদের। এলাকায় তারা সিপিএম সমর্থক বলেও পরিচিত। আর এই কারণেই সরকারি পরিষেবা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত তারা, এমনটাই অভিযোগ। পঞ্চায়েতের কাছে একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবী তাদের। এবার শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন গ্রামবাসীরা।

কী বললেন বঞ্চিতরা?

বঞ্চিত ওই গ্রামবাসীদের দাবী, “বিরোধী রাজনৈতিক দল করার জন্য আমাদের মাটির বাড়ি-ঘর, পেপার আর খোলার ছাউনি হওয়া সত্ত্বেও আবাস যোজনার বাড়ি থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি পানীয় জল, স্বচ্ছ ভারত মিশনের বাথরুম-সহ বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। তৃণমূল দল না করার কারণে, ঢালাই রাস্তাও আমাদের বাড়ির সামনের অংশ থেকে বাদ রাখা হয়”।

ঘটনার তীব্র নিন্দা সিপিএমের

এই ঘটনায় সিপিএমের বাদুড়িয়া ২ অঞ্চল কমিটির সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ ব লেন, “তৃণমূল আসার পর থেকে এই বুথে কোনও কাজ হয় না। এরা খুব গরিব মানুষ। বামফ্রন্টের সময়ে আমরা কিছু ঘর করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীকালে বাংলার আবাস যোজনায় এই গরিব মানুষগুলির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। এই নয়াবস্তিয়া অঞ্চল দুর্নীতির পীঠস্থান হয়ে উঠেছে”।

এও ঘটনার কথা সামনে আসতেই এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জীব মণ্ডল বলেন, তাঁর কাছে কখনও ওই এলাকার বাসিন্দারা কোনও অভিযোগ জানান নি। সিপিএম করার কারণে পরিষেবা মিলছে না, এই অভিযোগ মানতে নারাজ ওই পঞ্চায়েত প্রধান।

তিনি বলেন, “অতীতে কী হয়েছে, তা আমি বলতে পারব না। ছ’মাস হল আমি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। তারপর থেকে যে যখন এসেছেন, সকলকে সমানভাবে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে এসে এলাকাবাসীরা জানালে, আমি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করব”।

আরও অন্যান্য খবর