ইচ্ছে থাকলেই উপায়! ডান হাত কেড়েছে ক্যানসার, মাত্র দু’মাসে বাঁ হাতে লেখা অভ্যাস করে মাধ্যমিক দিচ্ছে পড়ুয়া

ইচ্ছাশক্তিই আসল শক্তি। এই কথাটা খুব সত্যি। মনের জোরের জেরে যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, তা ফের একবার প্রমাণ করল এই বছরের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ক্যানসারের ফলে বাদ যায় ডান হাত। কিন্তু হার না মেনে বাঁ হাত দিয়েই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে পড়ুয়া তাও আবার মাত্র দু’মাসের অভ্যাসে।

কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েতে। সেখানকার বাসিন্দা শুভজিৎ বিশ্বাস এই বছরের একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাঁর বাবা-মা হলেন ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস ও শিখা বিশ্বাস। শুভজিতের বাবা আগে হস্তচালিত তাঁতি ছিলেন। কিন্তু এখন তাঁতের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি কলকাতায় ঢালাইয়ের নির্মাণ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। আর মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সেই কারণে পাশে মাসির বাড়িতেই থাকে শুভজিৎ।  

শুভজিতের মামা অরিজিৎ বিশ্বাস জানান, “দীর্ঘ দুই বছর ধরে শুভজিৎকে চিকিৎসা করানোর কারণে ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে কলকাতায় থেকেই কাজ করেন দিদি-জামাইবাবু। তাঁদের সামান্য একটি ভাঙাচোরা ঘর-সহ বাড়ি ছাড়া সহায় সম্বল আর কিছুই নেই। তবে আমরা আছি, শুভজিতের পাশে। ঈশ্বরের প্রতি ওর অগাধ বিশ্বাস। সফল ও হবেই”।

শুভজিতের মাসির কথায়, “আজ থেকে প্রায় ছয় বছর আগে একটি সাইকেল দুর্ঘটনায় আঘাত প্রায় শুভজিৎ। ওই ক্ষতস্থানেই ক্যানসার হয়ে গিয়ে শুভজিৎ ভর্তি হয় কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে। এর পর পরিস্থিতি খারাপ দেখে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বেঙ্গালুরুতে। তবে শত চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি তার ডান হাত। পচন অত্যন্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষ্ণনগরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে তার ডান হাত কেটে বাদ দেওয়া হয় গত ডিসেম্বর মাসে”।

অস্ত্রোপচারের আগে পর্যন্ত ডানহাত দিয়েই লেখালেখি বা সমস্ত কাজ করত শুভজিৎ। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ফলে ডানহাত বাদ যেতেই শুরু হয় তার জীবন যুদ্ধের লড়াই। ডিসেম্বরে অস্ত্রোপচার হওয়ার কারণে মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা দিতে পারে নি সে। কিন্তু মাধ্যমিকের আর দুই মাস বাকি। ডানহাত নেই। কীভাবে মাধ্যমিক দেবে সে। এই চিন্তায় যখন সকলে মশগুল, তখন হাল ছেড়ে দিতে নারাজ ছিল শুভজিৎ। মাধ্যমিক সে দেবেই। তাই শুরু হয় তার অন্য লড়াই।    

মাধ্যমিক পরীক্ষা মাত্র দু’মাস আগে থেকে বাঁ হাত দিয়ে লেখার অভ্যেস শুরু করে শুভজিৎ। প্রথমের দিকে সমস্যা হলেও, ধীরে ধীরে বেশ সাবলীলভাবেই বাঁ হাত দিয়ে লিখতে শুরু করে সে। আর এবার আর পাঁচটা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মতোই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে শুভজিৎ তবে হ্যাঁ, বাঁ হাত দিয়ে। পরীক্ষার্থীর এমন মনের জোরকে কুর্ণিশ জানিয়েছে তার নিজের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ও তার পরীক্ষা কেন্দ্র নৃসিংহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষকরাও। শুভজিতের হাতের লেখা ও গতি দেখে সকলে অভিভূত।   

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles